আড়াই বছর পর আজ নতুন বেঞ্চে বাড়িভাড়া রিটের শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৮:২০ | প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৮:১৩

রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ নম্বরের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী শাহরিয়ার আমান। তিনি ২০১৬ সালের এপ্রিলে ১৭ হাজার টাকায় বাসাটিতে উঠেছিলেন। চলতি জানুয়ারি নিয়ে দেড় বছরে দুবার বৃদ্ধি পেয়ে এখন ভাড়া ২০ হাজার টাকা। অন্যান্য বিলও বেড়েছে সমানতালে।

শাহরিয়ার আমান বাসা ছেড়ে দিলে যে রেহাই পাবেন তা-ও নয়, নতুন করে কোথাও বাসা নিতে গেলে সেখানেও ভাড়া বৃদ্ধির চোখ রাঙানি।

স্বল্প আয়ের মানুষের বেলায় বাড়ি ভাড়ার ফাঁস আরও কঠোর। পর‌্যাপ্ত সুযো-সুবিধা ছাড়াই আট হাজার টাকার বাসাভাড়া দুই বছরে হয়ে যায় ১০ হাজার টাকা।

রাজধানীসহ দেশের সব শহরেই বাড়িভাড়া নিয়ে স্বেচ্ছাচার চলছে দীর্ঘদিন ধরে।  বাড়ির মালিকরা যখন-তখন ইচ্ছামাফিক ভাড়া বাড়ান নানা অজুহাতে। তাদের বড় দাবি, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ নানা কর বৃদ্ধির কারণে ভাড়া বাড়ান তারা। অথচ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বেশির ভাগ বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স ১৫-২০ বছর ধরে একই রয়েছে। মাসিক হিসেবে একেকটি ফ্ল্যাটের হোল্ডিং ট্যাক্সের পরিমাণ সামান্যই।   

এই নৈরাজ্য রোধ করতে বাড়িভাড়া নির্ধারণের জন্য ছয় মাসের মধ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও গত আড়াই বছরে তা গঠিত হয়নি।

এমনকি ভাড়া পরিশোধের বিপরীতে ভাড়াটেকে রসিদ দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেটি পরিপালন করেন না অনেক বাড়িওয়ালা।

২০১৫ সালের ২ জুলাই সারা দেশের বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটের মধ্যে বিরোধের কারণগুলো চিহ্নিত করতে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের নির্দেশটি দিয়েছিলেন বিচারপতি বজলুর রহমান ও বিচারপতি রুহুল কুদ্দুসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। বেঞ্চের একজন বিচারক বিচারপতি বজলুর রহমান ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে মারা গেলে পরে আর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি।

কিন্তু ছয় মাসের মধ্যে কমিশন গঠনের নির্দেশের প্রায় দেড় বছর পর মারা যান বিচারপতি বজলুর রহমান। এই সময়েও নির্দেশটি কার্যকর করা হয়নি। তারও এক বছর পর নতুন বেঞ্চে আবার নতুন করে শুনানি হতে যাচ্ছে রিটটি।   

রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ঢাকাটাইমসকে জানান, মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য নতুন একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (আজ) এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে এর শুনানি হবে।

বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত আইনের বিধান কার্যকর চেয়ে ২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়েছিল, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে ভাড়ার রশিদ ও বাড়ি ছাড়ার জন্য নোটিশ দেওয়াসহ বিভিন্ন বিধান থাকলেও বেশির ভাগ সময় বাড়ির মালিকেরা সেটা পালন করেন না। এমনকি ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুসারেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন ও বিধি-বিধান কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ চাওয়া হয় রিটে।

(ঢাকাটাইমস/২৩জানুয়ারি/এমএবি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত