রোগ প্রতিরোধ করে পান্তাভাত!

ওবায়দুর রহমান, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৮:১৭

একসময় বাঙালির সকালের নাশতা হতো পান্তা ভাত দিয়ে। এর সঙ্গে একটু লবণ, শুকনা কিংবা কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ। অনেকে আবার আলুভর্তা, বেগুনভর্তা, শুঁটকিভর্তা বা সরিষার তেল দিয়ে পান্তা ভাত খেতেন রসনা মেটাতে। সকালে পান্তা খেয়েই মাঠে নেমে পড়তেন কিষান-কিষানিরা।

আগে বাংলাদেশে পান্তা খাওয়ার বেশ প্রচলন থাকলেও এখন আমরা তা এড়িয়ে চলি পেটের পীড়ার ভয়ে। অনেকে আবার পান্তা খান না গরিবি খাবার বলে। তবে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ না হলে যেন জমে না বৈশাখের উৎসব।

পান্তা নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা আচার যা-ই হোক, এটি রোগ প্রতিরোধ করাসহ স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী বলে মত দিয়েছেন পুষ্টিবিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা।

পান্তাভাতের পুষ্টিগুণ

ভারতের আসাম এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় পেয়েছেন পান্তাভাতের নানা পুষ্টি-উপাদান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণাকারী মধুমিতা বড়ুয়া ও গুনাজিৎ গোস্বামী গবেষেণা শেষে বলেন, তারা রান্না করা ভাত ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে এর ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে আয়রন পেয়েছেন ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম। যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে থাকে মাত্র ৩.৪ মিলিগ্রাম। আর ১০০ গ্রাম পান্তাভাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৩৯ মিলিগ্রাম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৫০ মিলিগ্রাম। সমপরিমাণ গরম ভাতে ক্যালসিয়াম থাকে মাত্র ২১ মিলিগ্রাম।

তারা আরো জানান, পান্তাভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৩০৩ মিলিগ্রাম, যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে তারা সোডিয়াম পেয়েছেন ৪৭৫ মিলিগ্রাম। এ ছাড়া খাবার নিয়ে গবেষণাকারী আমেরিকান এক বিজ্ঞানী বলেছেন, পান্তাভাত ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২ এর ভালো উৎস।

হজম বাড়ায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পান্তা একটি ফারমেন্টেড খাবার। মানবদেহের জন্য উপকারি বহু ব্যাকটেরিয়া পান্তাভাতের মধ্যে বেড়ে ওঠে। পান্তাভাতে ফারমেন্টেশনের ফলে পাকস্থলিতে প্যানক্রিয়াটিক অ্যামাইলেজসহ আরও কিছু এনজাইমের কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে কিছু পাকস্থলিতে জটিল শর্করা খুব সহজেই হজম হয়ে যায়।

রোগ প্রতিরোধ করে

একজন আমেরিকান পুষ্টিবিদ ও বিজ্ঞানী গবেষণায় দেখিয়েছেন, পান্তাভাত খেলে পেটের পীড়া ভালো হয়, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীরে সজীবতা বিরাজ করে। শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে।

গরম ভাতের তুলনায় পান্তাভাতে সোডিয়াম কম থাকায় রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা ও সতেজ রাখে। জলীয় খাবার বলে শরীরে পানির অভাব মেটায় এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে। পান্তাভাতে রয়েছে হাড় ও পেশির শক্তি বাড়ানোর উপাদান যা বার্ধক্য প্রতিরোধ করে।

(ঢাকাটাইমস/২৩জানুয়ারি/মোআ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত