রাজশাহীতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাচ্ছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:৫৫

দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্ণ করলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার। এক বছর আগে ঠিক আজকের এই দিনেই জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়ে নিজের কার্যালয়ে যান তিনি। তারপর গ্রহণ করেন নতুন নতুন পরিকল্পনা, শুরু হয় বাস্তবায়নের কাজ। গতি ফেরে জেলা পরিষদে। তাই মাত্র এক বছরেই রাজশাহীজুড়ে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৩ জানুয়ারি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ছয় কোটি ২৪ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজের বাস্তবায়ন হয়েছে। রাজশাহী মহানগরী ছাড়াও জেলার নয় উপজেলার মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, কবরস্থান, শ্মশানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এসব উন্নয়ন করা হয়েছে।

এর মধ্যে দুই কোটি ১৪ লাখ টাকায় ১৩৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে কমিটি পার্টিসিপেশন প্রজেক্ট কমিটির (সিপিপিসি) মাধ্যমে। বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো একটি কমিটি করে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেছে। জেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) হিসেবে এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।

এছাড়া গত বছর রাজস্বখাত থেকে নয়টি প্রকল্পে উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে ১৫ লাখ টাকার। একই খাতে চেয়ারম্যানের স্ববিবেচনায় ১৮টি প্রকল্পে উন্নয়ন করা হয়েছে ৩৬ লাখ টাকার। এছাড়া ওই বছর জেলা পরিষদে ৬১ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। জেলা পরিষদের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সে টাকায় ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

গত বছর আরএডিপির উপখাত থেকেও ৫৮টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার। এসব প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। গত বছর যখন বন্যায় জেলার বাগমারা, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, পবা ও দুর্গাপুর উপজেলার অনেক মানুষ বিপর্যস্ত ছিল, তখন ত্রাণ নিয়ে সেসব এলাকায় ছুটে গেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্য ও নারী সদস্যরা।

বন্যায় বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয় পাঁচ লাখ টাকার ত্রাণসামগ্রী। শুধু তাই নয়, ওই বছর আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে অসুস্থ ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের। সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়েছে জেলার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে। এছাড়া মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে এককালীন বৃত্তি।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার প্রকল্পের কাজের ঠিকাদার নির্বাচনেও স্থাপন করেছেন দৃষ্টান্ত। গত বছর টেন্ডারের মাধ্যমেও এডিপির ১০০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে জেলা পরিষদ। দুই কোটি আট লাখ টাকার এসব উন্নয়ন কাজের জন্য ঠিকাদার নির্বাচনে জেলা পরিষদে সব ঠিকাদারের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নির্বাচন করায় জেলা পরিষদে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

জেলা পরিষদ সূত্রে আরও জানা গেছে, এ বছরও অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ মিলেছে চার কোটি ৭০ লাখ টাকা। এই টাকায় ২৪৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য সম্প্রতি সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে এলেই শুরু হবে এসব উন্নয়ন কাজ।

এর মধ্যে এডিপির আওতায় সিপিপিসির মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে ১৩০টি প্রকল্প। এখানে ব্যয় হবে এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আর টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে ১১৪টি প্রকল্প। সেখানে ব্যয় হবে দুই কোটি ৮২ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জেলায় উন্নয়ন আরও দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা যায়।

এদিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নিজস্ব ভবন নির্মাণেরও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার আগে জেলা পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত চলে গেলেও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার ভবন নির্মাণের জন্য চেষ্টা শুরু করেন। অবশেষে তিনি সফলতার দেখা পান।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নগরীর কোর্ট এলাকায় জেলা পরিষদের জায়গায় ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন ঠিক করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নয়তলা বিশিষ্ট এই ভবনটির প্রথমে চারতলা নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য কৃষ্ণা দেবী বলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার একজন উদ্যমী মানুষ। সব দিক দিয়েই তিনি খুব ভালো। তার নেতৃত্বেই আমরা জেলা পরিষদকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। প্রথম দিকে নতুন জায়গায় এসে সবকিছু বুঝে উঠতে একটু সময় লাগলেও গত এক বছরেই আমরা মানুষের জন্য অনেক কাজ করতে পেরেছি।

প্যানেল চেয়ারম্যান-১ নাইমুল হুদা রানা বলেন, গত এক বছরেই পরিষদকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ হয়েছে। এই ধারা আগামী চার বছর অব্যাহত থাকলে পুরো জেলায় তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমরা সকল সদস্য এবং নারী সদস্যরা একত্রিতভাবে কাজ করে যেন আমরা আগামি চার বছর কাটাতে পারি সেই প্রত্যাশা করি।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার ঢাকাটাইমসকে বলেন, পরিষদের সব সদস্য এবং নারী সদস্যরা তাকে সহযোগিতা না করলে তার একার পক্ষে এক বছরেই এতো কাজ করা সম্ভব হতো না। সবার সহযোগিতায় তিনি মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আগামীতে জেলার প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা আছে বলেও জানান তিনি।

চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। রাজশাহীতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আমি জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আগামী চার বছরে আমি পুরো জেলায় এমন উন্নয়ন করে যেতে চাই যেন তা বর্তমান সরকারের উন্নয়নেরই প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়ায়। আর জেলা পরিষদের ভবন নির্মাণ করাটা আমার বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার। এর আগে তিনি রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং সার্ক চেম্বারের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় ১৫টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিতেই জয়ী হয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২৩জানুয়ারি/আরআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত