গ্রেনেড হামলা মামলা

তারেকের খালাস চাইলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:৫৭ | প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:০৯
ফাইল ছবি

২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা দুই মামলাতেই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাস চেয়েছেন তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল কালাম মো. আকতার।

ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন জেলখানার সামনে একটি পুরনো ভবনে ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে বিচারকাজ চলছে।

সোমবার এই মামলায় যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী আকতার। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে তিনি যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

বেলা সোয়া ১২টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন তারেকের আইনজীবী। আগের দিন সোমবারও তিনি এক ঘণ্টার বেশি যুক্তি দেন।

২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলার ঘটনায় দুটি মামলার আসামি তারেক রহমান ‘পলাতক’ থাকায় তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।

তারেক রহমান সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে ‍মু্ক্তি নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। পরের বছর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয় তার মধ্যে এই মামলাও আছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলাটি ইচ্ছা করেই ভিন্নখাতে নেয়ার প্রমাণ মিলেছে। আর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তদন্তে শেষে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুর সালাম মিণ্টুকে আসামি করা হয়। ২০০৮ সালে দেয়া অভিযোগপত্রে পিন্টুসহ ২২ জনকে আসামি করে বিচার শুরু হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর অধিকতর তদন্তে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

হামলার ঘটনায় হত্যা ও হত্যা চেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলাতেই আসামি করা হয় তারেক রহমানকে।

প্রায় নয় বছর শুনানি চলাকালে গত ২৩ অক্টোবর থেকে এই মামলায় যুক্তি উপস্থান শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। আর ১ জানুয়ারি যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে তারেক রহমান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ।

এর পর থেকে শুরু হয় আসামি পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন। সোমবার প্রথম দিন তারেকের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকারী আইনজীবী আবুল কালাম মো. আকতার দাবি করেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে রাজনৈতিক কারণে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। 

আজ তারেকের আইনজীবী বলেন, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে হাওয়া ভবনে দুটি বৈঠকের কথা এসেছিল। কিন্তু মুফতি হান্নান পরে সেই জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন। কাজেই এই জবানবন্দির ভিত্তিতে সাজা দেয়া ঠিক হবে না।

‘আবার হাওয়া ভবনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে বৈঠকের কথা মুফতি সেখানে বলেছেন, সেই ঘটনাস্থল ও আশেপাশের কোনো সাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। এ জন্য আমার আসমি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হয়নি।’

এই মামলার ৫২ আসামির মধ্যে জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান ও শাহেদুল আলম বিপুলের ফাঁসি কার্যর হয়েছে অন্য একটি মামলায়। ফলে তাদের নাম এই মামলা থেকে কাটা গেছে। বাকি আসামিদের মধ্যে প্রায় ২০ জনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আর আজ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছেন জঙ্গিনেতা ইয়াহিয়ার আইনজীবী।

তারেক রহমানের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়াও। এই মামলায় তারেকের পক্ষে তারা আইনজীবী হিসেবে না দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এই মামলায় আইনজীবী দিতে চেয়েছিলাম। আবদুর রেজাক খান তার (তারেক) পক্ষে বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই বিক্তব্য দিতে দেননি বিচারক।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য জনসভায় নজিরবিহীন হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ নেতা-কর্মী আহত হন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সে সময়কার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ছোড়া গ্রেনেড থেকে নেতারা তাকে রক্ষা করেন মানববর্ম বানিয়ে। নেত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে জীবন দেন তার একজন দেহরক্ষী।

ঢাকাটাইমস/২৩জানুয়ারি/এমবি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত