মিয়ানমার সীমান্তে জোরদার হচ্ছে বিজিবির টহল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৫৫
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বিজিবির টহল ও নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রায় দেড়শ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিবেশী দেশটি থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ হবে বলে আশা করছে সরকার। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে মোট ১৪১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর পুরোটাই দেয়া হবে সরকারের তহবিল থেকে। 

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ওই এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর পোল্ডারসমূহের পুনর্বাসন করা হলেও এই প্রকল্পে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাবে বলে আশা করছেন মন্ত্রী।

মুস্তফা কামাল জানান, কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার পূর্ব দিকে মিয়ানমার অবস্থিত। দুই দেশের সীমানার মধ্যে আছে নাফ নদী। এই নদীর ডান তীরে পোল্ডারের আওতায় ৪৭.৬০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং ৪৬টি পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো রয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিজিবির মোটরযানে করে টহল কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে বলেও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে আজকের সভায় ছয় হাজার ২২৮ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫ হাজার ৮৭৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। বাকিটা সংস্থার নিজস্ব তহবিল ও প্রকল্প সাহায়্য সংস্থা থেকে পাওয়া যাবে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে এক হাজার ৫২১ কোটি ৭৬ টাকা ব্যয়ে কুমিল্লা অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে।

৪৮৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় পাবনার সুজানগরে গাজনার বিলের সংযোগ নদী খনন, সেচ সুবিধার উন্নয়ন এবং মৎস্য চাষ (৩য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত) করা হবে। ৯৪ কোটি টাকায় করা হবে মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা।

১ হাজার ১৫২ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন হবে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের-তৃতীয় পর্যায়।

নরসিংদীর মরজাল-বেলাব সড়ক ও পোড়াদিয়া-বেলাব জেলা মহাসড়ক দুটি যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে ১০৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকায়।

১০৫ কোটি টাকায় বগুড়া শহর থেকে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ (এন-৫১৯) হবে।

জিএমডিএসএস এবং ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম স্থাপন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৫৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকায় গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থল বন্দর উন্নয়ন হবে।

৭১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় হবে ইন্ট্রোডাকশন অব মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এবং মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) ইন প্রকল্প।

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বাস্তবায়ন (ভ্যাট অনলাইন) প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারকে শক্তিশালীকরণ (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪০ কোটি ৬৯ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ১৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকায় কেমিক্যাল মেট্রোলজি অবকাঠামো সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৩জানুয়ারি/জেআর/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত