রূপা হত্যা মামলার সাক্ষ্য নেয়া শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
 | প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৪৫

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজের ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার সাক্ষ্য নেয়া শেষ হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার মামলার হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাইয়্যুম খান সিদ্দিকীর সাক্ষ্য প্রদান ও জেরার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য নেয়া শেষ হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক আগামী ২৮ জানুয়ারি ৩৪২ ধারায় পরবর্তী দিন ধার্য্য করেছেন।

৩ জানুয়ারি মামলার বাদী মধুপুরের অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ২০ দিনের মধ্যে এই মামলার চারজন বিচারিক হাকিম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা আদালতে সমাপ্ত হয়।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিশেষ পিপি এ কে. এম মো. নাছিমুল আখতার জানান, ৯ম দিনের এ  সাক্ষ্যগ্রহণ চলে বেলা ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত। এতে সাক্ষ্য দেন মামলার সাক্ষী রূপা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাইয়্যুম খান সিদ্দিকী। সাক্ষ্য নেয়া শেষে আদালতের বিচারক আগামী ২৮ জানুয়ারি ৩৪২ ধারায় পরবর্তী দিন ধার্য্য করেছেন।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ছোঁয়া পরিবহনের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীর (৫৫) বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধিত ২০০৩) ৯ এর তিন ধারায় গণধর্ষণের অভিযোগ এবং দ-বিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ, ২০১ ধারায় লাশ গুমের অভিযোগ এবং ৩৪ ধারায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে চার্জশিটে। চার্জশিটে ৩২জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশ, চিকিৎসকসহ পাঁচ-ছয়জন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সহায়তায় ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়কারি অ্যঅডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ ও অ্যাডভোকেট এস আকবর খান। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন শামীম চৌধুরী দয়াল ও ঢাকা জর্জ কোর্টের অ্যঅডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন।

গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রুপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে রুপার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করেন। ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে হাজির করা হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার আসামিরা প্রত্যেকেই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৩জানুয়ারি/আরকে/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত