ছাত্রলীগের পিটুনিতে শতাধিক আহতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:৩৭ | প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:২২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কার্যালয় অবরোধ করে রাখা বিক্ষোভকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহতের অভিযোগ করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের দুই জন নেতা।

মঙ্গলবার বিকালে এই হামলার পর রাতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এই অভিযোগ করেন। তারা এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারও দাবি করেছেন।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব কান্তি, সদস্য সোহাইল আহমেদ শুভ, রবিউল ইসলাম মিম, ইভা মজুমদার, প্রগতি বর্মন তমাও আহত হয়েছেন। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিবৃতিতে দুই নেতা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে এহেন আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ সন্ত্রসীরা আজ হল ও ক্যাম্পাসগুলোকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে দুই ছাত্রনেতা বলেন, ‘শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের দ্বারা শিক্ষার্থীরা লঞ্ছিত হচ্ছে তার বিচার চাইতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিচার না করে মিথ্যা মামালা ও হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা করছে।’

শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারীদের বিচার, প্রক্টর অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলা প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ‘বণিজ্যিক’ কোর্স বন্ধ, সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ডাকসু নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান দুই বামপন্থী ছাত্র নেতা।

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ চড়াও হয় বলে অভিযোগ আছে। সেদিন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া মেয়েদের কটূক্তি ও যৌন হয়রানির অভিযোগও করছে নির্যাতনবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনে অংশ নেয়া বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

‘যৌন হয়রানি’তে জড়িতদের বহিষ্কারের দাবিতে মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে নির্যাতনবিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বামপন্থী ছাত্র-সংগঠনটির শ দুয়েক কর্মী উপাচার্য আখতারুজ্জামানের কার্যালয় ঘেরাওয়ে যায়। বেলা সোয়া তিনটার পর দৃশ্যপটে হাজির হয় ছাত্রলীগ। তারা বিক্ষোভকারীদের কবল থেকে উপাচার্যকে ‘উদ্ধার’ করে।

পরে চারটার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে নেতা-কর্মী নিয়ে এসে হামলা করা হয় উপাচার্যকে ঘেরাওয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় তাদেরকে রড দিয়ে বেদম পেটানো হয়।

ঢাকাটাইমস/২৩জানুয়ারি/এনএইচএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত