আল্লাহপাকের বিচার আছে, খালেদা জেলে যাবেন: এরশাদ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:৪৭ | প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:২৩

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাবেন বলে আগাম মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আর আল্লাহর বিচার আছে বলেই এমনটা ঘটতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকালে লালমনিরহাটের পূর্বসাপটানায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদেরের বাসার সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন এরশাদ।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বেগম জিয়া আমাকে ছয় বছর জেলে আটকে রেখেছিল। আমার স্ত্রীকেও জেলে নিয়েছিলেন। মাটিতে শুয়ে রাখা হয়েছিল ১০ দিন। আমার পাঁচ বছরের বাচ্চা, তাকেও জেলে নিয়েছিল।‘

‘এত দিন পরে খালেদা জিয়া বুঝতে পারছেন, আল্লাহ পাকের বিচারও আছে। সুবিচার আমাদের উপর হবে। ওনার (খালেদা) বেশি দিন নাই। ওনাকে জেলে যেতেই হবে।’

খালেদা জিয়া জেলে গেলে বিএনপির অবস্থা কী হবে?-সে প্রশ্নও রাখেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

‘বিএনপি থেকে লোক আসবে জাতীয় পার্টিতে’

খালেদা জিয়ার সাজা হয়ে গেলে বিএনপি বিভক্ত হয়ে যাবে বলেও দাবি করেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপির একটা অংশ বলবে, খালেদা জিয়াকে জেলে কেন, আমরা নির্বাচন করব না। কিছু অংশ বলবে, নির্বাচন না করলে বিএনপি থাকবে না। হয়ত একটা অংশ নির্বাচন করতে পারে।’

বিএনপিতে এই বিভক্তিতে জাতীয় পার্টির ভালবান হওয়ার সুযোগও দেখছেন এরশাদ। বলেন, ‘তখন হয়ত সুযোগ একটা আসবে। বিএনপির কিছু নেতা আমাদের দলে আসতে পারে। কারণ আমাদের দর্শন, বিএনপির দর্শন তো একই।’

তবে বিএনপি নির্বাচনে আসুক বা না আসুক জাতীয় পার্টিকে ছাড়া আগামীতে কেউ সরকার গঠন করতে পারবে না বলেও দাবি করেন এরশাদ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুই মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আর দুই আসামির বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন চলছে এখন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে।’

দুই দিন পর এক টুইট বার্তায় খালেদা জিয়া প্রশ্ন তোলেন, রাঙ্গার এই মন্তব্য আদালত অবমাননা নয় কি না। ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় মাননীয় প্রধান বিচারপতি কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, জনগণ সেইদিকে সতর্ক নজর রাখছে’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেত্রী।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চেয়ে লালমনিরহাটের সদর আসনে ভাই জি এম কাদেরই জাপার প্রার্থী ঘোষণা করেন এরশাদ। বলেন, ‘সব বাধা উপেক্ষা করে এবং বিভেদ ভুলে তাকে বিজয়ী করে আমার সম্মান রক্ষা করবেন।’

এরশাদ বলেন, ‘জি এম কাদের একজন সৎ, সাহসী, সজ্জন, গুণী মানুষ হিসেবে পরিচিত। জি এম কাদের এর আগে বিমান ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই, এমন গুণী মানুষ জাতীয় পার্টির জন্য সম্পদ, তিনি আমার অবর্তমানে পার্টির হালও ধরতে পারেন।’

কেবল এই আসন নয়, বৃহত্তর রংপুরের ২২টি আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে জয়ী করতে এই অঞ্চলের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান এরশাদ।

দশম সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন করি নাই, আমার ছোট ভাই জি এম কাদেরও নির্বাচন করে নাই। এটা রাজনৈতিকভাবে ভালো কী মন্দ হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। আমি এখন কিছু বলতে চাই না ‘

‘বর্তমান সংসদে জাতীয় পার্টি বিরোধী দল, আবার সরকারের মন্ত্রিপরিষদেরও সদস্য। কেন এ অবস্থা, সচেতন মানুষমাত্রই সবকিছু জানেন।’

মতবিনিময় সভায় যোগ দেয়ার আগে এরশাদ রংপুর থেকে সড়ক পথে লালমনিরহাট সার্কিট হাউজে পৌঁছেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান।

এ সময় তাঁকে সেখানে লালমনিরহাট জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূত এরশাদকে গার্ড অব অনার দেয়।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/২৩জানুয়ারি/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত