বাণিজ্য মেলায় সাড়া ফেলেছে কয়েদিদের তৈরি পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:২২ | প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:২০

কয়েদিদের তৈরি পণ্য কারাগারের বিক্রয়কেন্দ্রে বছরজুড়ে পাওয়া গেলেও সেসব নিয়ে প্রথমবারের মতো বাণিজ্য মেলায় স্টল সাজিয়েছে ‘কারা কর্তৃপক্ষ’। আর এসব পণ্য সাড়া ফেলেছে বাণিজ্য মেলায় আগত ক্রেতা, দর্শনার্থীদের মধ্যে।

বাণিজ্য মেলার ভিআইপি গেটে দিকে ‘কারাপণ্যের’ ৫ নম্বর মিনি প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে বাংলাদেশ জেল কর্তৃপক্ষ। এখানে পাওয়া যাচ্ছে কাঠ ও পাটের সংমিশ্রণে তৈরি চেয়ার, পুঁতি দিয়ে তেরি বিভিন্ন উপহার সামগ্রী, তাঁত পণ্য, পাটের বহুমুখি পণ্য, বাঁশ, কাঠ এবং প্লাস্টিকের তৈরি পণ্যের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী।

কয়েদিদের তৈরি পণ্য দেখে অভিভূত ‘কারাপণ্য’ স্টলে আসা ইমরান হোসেন নূর। ঢাকাটাইসকে ইমরান বলেন, ‘তারা যে এত সৃষ্টিশিল হতে পারে সেটা এ স্টলে না এলে বোঝাই যেত না।’

নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন স্বপন সিকদার। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমি এখান থেকে পুঁতি দিয়ে তৈরি নৌকা কিনলাম। আর মায়ের জন্য একটি শড়ি কিনেছি।

এ প্যাভিলিয়নের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার নূরুল মুবীন ঢাকাটাইমসকে বলেন, কারাগারের কয়েদিদের তৈরি পণ্য কারাগারের বিক্রয়কেন্দ্রে বছরজুড়েই বিক্রি হয়। এবারই প্রথম বাণিজ্য মেলায় ‘কারা পণ্য’ নিয়ে আমাদের আসা।

তিনি বলেন, কয়েদিরা কারাগার থেকে মুক্ত হলেও যেন কাজের মধ্যে যুক্ত থাকতে পারেন এ জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পণ্য উৎপাদনে যুক্ত করা হচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে। সাজাপ্রাপ্তদের জন্য কারাগার এখন সংশোধনাগার বলেও উল্লেখ করেন এ কর্মকর্তা।

নূরুল মুবীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন, ‘যারা কারাগারে পণ্য তৈরি করে তাদের এ পণ্য থেকে লাভের অংশ দেয়ার জন্য। যাতে তারা কয়েদিরা বের হওয়ার সময় পরিবারের কাছে কিছু অর্থ নিয়ে যেতে পারে। পণ্য তৈরিতেও ‍উৎসাহ পায়।’ মেলা শেষে বিক্রয়ের একটি লাভের অংশ যারা পণ্য তৈরি করেছে তাদের দেয়ার ব্যপারে কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

মেলায় আনা পণ্য সম্পর্কে নূরুল মুবীন বলেন, আমাদের এ স্টলে পুঁতি দিয়ে তৈরি ব্যগ, পাটের ব্যগ, কাঠের চেয়ার, মোড়া, বেতের চেয়ার, বিভিন্ন সো পিস, নারী ও পুরুশের পোশাক, টেবিল, সিংহাসন চেয়ার, বিভিন্ন উপহার সামগ্রি সহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। পণ্যের প্রচার ও প্রসারের জন্য বাণিজ্য মেলায় আমাদের আসা। মানসম্মত পণ্য পেয়ে ক্রেতারাও বেশ ভালো কিনছেন।

কয়েদিদের তৈরি পণ্য কিনতে মানুষ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, অনেক পণ্য নিয়ে এসেছিলাম আমরা, এখনতো প্রায় খালি হয়ে গেছে স্টল।

প্যাভিলিয়নটি ঘুরে দেখা যায়, এখানে আনা বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্য দেখতে খুব দৃষ্টিনন্দন। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কারাগার, বগুড়া জেলা কারাগার, রজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে তৈরি পণ্যগুলো স্টলটিতে রয়েছে। প্রতিটি মোড়ার দাম ৭৩০- ৮৫০ টাকা, সিংহাসন চেয়ার আড়াই হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা।

এছাড়া কুলা ও চালনি, ফুল ও ফলের ঝুড়ি, পানদানি, উলেন গেঞ্জি ও টিশার্ট, নকশিকাঁথা, বুটিক ও বাটিকের থ্রিপিস, গামছা ও লুঙ্গি, বেডসিট, পাটের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, কাঠের তৈরি খাট, আলমারি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র রয়েছে।

ঢাকাটাইমস/২৭জানুয়ারি/জেআর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত