আমাদের দেয়ার ইতিহাস আছে, নেয়ার নয়: দোলন

মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:৩৮ | প্রকাশিত : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৯:৫৪

বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আরিফুর রহমান দোলন বলেছেন, ‘জনপ্রতিনিধি হই আর না হই মানুষের সেবায় এই এলাকার উন্নয়নের জন্যে কাজ করবো। এটি আমার অঙ্গীকার। আমার পূর্বপুরুষের ইতিহাস আপনারা জানেন। শত বছরের মানুষের কল্যাণ করার ইতিহাস আমাদের। আমরা মানুষকে দিতে পছন্দ করি। আমাদের দেয়ার ইতিহাস আছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত নেয়ার কোনো ইতিহাস আমাদের নেই।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বায়সা গ্রামে শ্রী শ্রী জানকী পাগলের চতুর্থ বার্ষিক তিরোধান উৎসব উপলক্ষে মতুয়া মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরিফুর রহমান বলেন, ‘যারা নিতে জানে তাদেরতো দিতেও জানা উচিত। কিন্তু এমন জনপ্রতিনিধি আমরা আর চাই না। যারা শুধু নেবে, বিনিময়ে কিছুই দেয় না। ভালো ব্যবহারটাও করে না।’

দোলন বলেন, ‘কেন আজ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসে রাজনীতির কথা বলতে হচ্ছে? এই কারণেই বলতে হচ্ছে, এই যে ধর্ম পালন এটি সুষ্ঠুভাবে করতে হলে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন আছে। বিএনপি-জামায়াতের সরকারের সময় হিন্দু ধর্মের ভাই-বোনেরা ঠিকমত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানও করতে পারেনি। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের আমলে মন্দির ভাঙা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রতিমার ওপর হামলা হয়েছে। সেই বিএনপি-জামায়াত চক্র আবারও ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। তারা আবারও পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চক্রান্ত করছে।’

সমাজ সেবামূলক সংস্থা ‘কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান দোলন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যিনি ইতিমধ্যে দুর্নীতির গডমাদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এতিমের টাকা চুরি করেছেন। আদালতে তা প্রমাণ হতে চলেছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে তার দুর্নীতির মামলার রায় হবে। রায়ে কী হবে আমরা জানি না। তবে খালেদা জিয়া নিজেই জানেন তার জেল হবে। কারণ উনিতো এতিমের টাকা চুরি করেছেন।’

দোলন বলেন, ‘৮ তারিখের রায়ের পরে যদি খালেদা জিয়া দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান সেটা আমরা হতে দেব না। এটি হতে দেয়া যাবে না। আমরা কঠোরহস্তে দমন করবো। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ওই বিএনপি-জামায়াত চক্রকে প্রতিরোধ-প্রতিহত করতে হবে। আর কোনো ছাড় দেয়া যাবে না।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ কে এম আহাদুল হাসান আহাদ বলেন, ‘আমরা আগামীতে এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চাই, যিনি জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন। আরিফুর রহমান দোলন ইতিমধ্যে জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে সেই প্রমাণ রেখেছেন। আমরা আলফাডাঙ্গার মানুষ এই কামনা করি আগামী নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে আরিফুর রহমান দোলন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করবো তিনি যেন দোলনকে মনোনয়ন দেন।’

মতুয়া মহাসম্মেলনে সুদীর কুমুর বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক প্রবীর কুমার বিশ্বাসের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সহ-সভাপতি বাবু সুভাষ চন্দ্র সাহা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন, ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব ও ফরিদপুর জেলা পরিষদ সদস্য শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ, গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান প্রমুখ।

‘সেবার জন্য আমার কাছে আসতে হবে না, আমিই যাবো’

এদিকে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের টগরবন্দ শশ্মান প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী নামজজ্ঞ অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথির বক্তব্য আরিফুর রহমান দোলন।

ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক এই সময় সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন হয়। এ উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করতে আমি এ অঞ্চলের কৃষ্ণপুর থেকে কামারখালী পর্যন্ত প্রতিনিয়ত ছুটে বেড়াচ্ছি।’

দোলন বলেন, ‘আমার কাছে সেবার জন্য কারো আসতে হবে না। আমি নিজেই আপনাদের দুয়ারে সেবা নিয়ে ছুটে  যাবো। আমাদের রয়েছে বংশ পরম্পরায় শত বছরের জনসেবার ইতিহাস। যা আপনারা সবাই জানেন।’

কৃষক লীগের সহসভাপতি বলেন, ‘ধর্ম সব সময় ভালো কাজ করার কথা বলে। ধর্ম মানুষের সেবার কথা বলে। আমিতো সেটাই করে যাচ্ছি। মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছি।’

আগামী নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আগামী সংসদ নির্বাচনে তাকেই মনোনয়ন দেবেন, যিনি সব সময় জনগণের সঙ্গে আছেন। জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। কারা জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে আছেন নেত্রী তা ভালোভাবেই অবগত।’

দোলন বলেন, ‘আমি কিছু পেতে চাই না। আমার কিছু চাওয়া নেই। আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে জনগণের সেবা করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পেলে আপনাদের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। আগামীতে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে নদীকবলিত এ এলাকার মানুষ আর পিছিয়ে থাকবে না।’

এ সময় টগরবন্দ শশ্মানের সীমানা প্রাচীর ও শশ্মান প্রাঙ্গণের মাটি ভরাটের আশ্বাস দেন আরিফুর রহমান দোলন।

সংকর ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এম জালালউদ্দীন আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ সদস্য শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ, টগরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাচান শিপন, গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুল হাচান, সাবেক টগরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সাইদ প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/০৭ফেব্রুয়ারি/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজপাট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত