‘র‍্যাগ’ খেয়ে বাবা-চাচাদের চিনতে পারছে না মিজান!

শেখ আদনান ফাহাদ
 | প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:১৩

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের বাইরের কোনো অস্তিত্ব নয়। বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক রাজধানী নামে এর খ্যাতি রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশে রাষ্ট্র ও জাতিগঠন প্রক্রিয়ায় এই প্রতিষ্ঠান অনবদ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, কিছু দুর্বৃত্তের জন্য মাঝে মাঝে এমন ঘটনা ঘটে, যাতে ইতিবাচক সবকিছু আড়ালে পড়ে যায়।

কদিন আগেই আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা সম্মেলন হয়ে গেল জাহাঙ্গীরনগরে। এত সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় দেখে বিদেশীদের চোখ কপালে উঠে গেছে। নাটকের পর নাটক চলছে মুক্তমঞ্চে। গানের অনুষ্ঠান হচ্ছে, খেলাধুলা হচ্ছে। দেশ-বিদেশে নানা ক্ষেত্রে জাহাঙ্গীরনগরের মেধাবী সন্তানেরা নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু ঘটনা ঘটে যায় যা সব ইতিবাচকতাকে খানিকের জন্য হলেও ঢেকে দেয়। গুটিকয়েক শিক্ষার্থী এমন সব অপকর্ম করে যার ফলে তাদেরকে দুর্বৃত্ত বললে সঠিক বলা হয়। এদের জন্য মনে কোনো মায়া, দয়া অনুভব করি না। শুধু কি কিছু শিক্ষার্থী? শিক্ষকরাও এমন সব ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটান, যাতে যেখানে-সেখানে মানুষ জ্ঞান দেয়।

এভাবে  কখনো শিক্ষক, কখনো শিক্ষার্থী নামের দুর্বৃত্তদের অপকর্মে নাক কাটা যায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের। তবে এই চিত্র শুধু জাহাঙ্গীরনগরের নয়, পুরো বাংলাদেশেই সমাজে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এর বাইরে আমরা কেউই নই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছেলে নিজের ক্যালকুলেটর ফেরত চেয়েছিল বলে  মার খেয়ে এখন এক চোখ হারানোর পথে। আমি নিজেও ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়াকালীন বড় ভাইদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। আমার নিঃশ্বাস এর বাতাস নাকি এক বড় ভাইকে বিরক্ত করেছিল। তাই আমাকে মারতে এসেছিল রুমে। আরেক ঘটনায় আমার বন্ধু দরজা খুলতে দেরি করে ঘুষি খেয়ে শারীরিক এবং মানসিকভাবে আহত হয়েছিল। জুনিয়রদের দমিয়ে রাখার প্রয়াস সব জায়গায় কম-বেশি আছে।  

মানুষ ভালো কাজ মনে রাখে না, মনে রাখে শুধু নেতিবাচক ঘটনাগুলো। র‍্যাগিং এর নামে এমন এক ঘটনা জাহাঙ্গীরনগরে ঘটেছে, যার ভয়াবহতার মাত্রা সকলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ‘র‍্যাগ’ খাওয়া মিজান নামে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থী তার নিজের বাবাকে, চাচাদের চিনতে পারছে না। ঘটনাচক্রে মিজানের এক চাচা আমার পূর্ব-পরিচিত। তিনি নিজেও কলেজের শিক্ষক। মিজানের চাচা আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়। ভাতিজাকে ছোট থেকে বড় করার ক্ষেত্রে তারও অবদান আছে। চাচারাতো অনেক ক্ষেত্রে বাবাদের মতই হয়। মিজানের চাচা আমার কাছে ফোন করে কাঁদছিলেন। আমি কী আর বলতে পারি! মিজানকে তিনি তখন মনোচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

আমি শুধু বলেছি, মিজান আগে সুস্থ হোক। পুরো জাহাঙ্গীরনগর ‘র‍্যাগিং’ এর নামে নির্যাতনের বিরুদ্ধে। পুরো ক্যাম্পাসে ঝড় উঠেছে সমালোচনার, প্রতিবাদের। দোষীদের বিচার করা হবে। কিন্তু মনে ছিল নানা প্রশ্ন। দোষীদের যদি বিচার হয়, তবু কি মিজান স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে? দুর্বৃত্তগুলো যে ওরই বিভাগের সিনিয়র। বিভাগে ফিরতে পারবে মিজান? আমরা শিক্ষকরা কি মিজানকে ফিরিয়ে আনতে পারব? মিজানের নিরাপত্তা দিতে পারব? মিজান কি নিজে নিজে চলার সামর্থ্য ফিরে পাবে? মিজান নাকি একটু পরপরই আঁতকে উঠছে, চিৎকার করে উঠছে, কাউকে চিনতে পারছে না। মিজানের সাথে কী হয়েছিল কেউ কি বলতে পারেন? একটা উত্তর খুব সহজে দেয়া যায়, মিজানকে ‘র‍্যাগ’ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ‘র‍্যাগ’ মানে কী?

ইদানিং র‍্যাগের জায়গা নিচ্ছে আরেকটা শব্দ- ‘ফাঁপর’। কীভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন একটা তৃতীয় শ্রেণির শব্দ জায়গা করে নিতে পারে? জাহাঙ্গীরনগর বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী। সাংস্কৃতিক রাজধানীতে কেন এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হবে? সবাই করছে না, কেউ কেউ করছে। এই শব্দ যে একদিন অনেক মানুষ ব্যবহার করবে না, এর নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। যে দেশে ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, চোর-বাটপারগণ সমাজের মহাতারকা সে দেশে তরুণ-তরুণীরা ‘ফাঁপর’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করবে এটাই স্বাভাবিক।    

যে র‍্যাগের প্রতি আমাদের ভয়, সে ‘র‍্যাগ’ আসলে ভয়ানক ফাঁপর। ফাঁপর দিতে গিয়ে ভয়ঙ্করভাবে অপমান করা হয় জুনিয়রদের। জুনিয়রদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। অথচ ‘র‍্যাগ’ হতে পারত শতভাগ ইতিবাচক একটি শব্দ। ‘র‍্যাগ’ দেয়া আর ‘র‍্যাগ’ পালন করার মধ্যে বিন্দুমাত্র মিল নেই। যেমন ‘র‍্যাগ’ শব্দকে উপজীব্য করেই জাহাঙ্গীরনগরে ৪০ ব্যাচের সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে দারুণ এক উৎসবের। রাজা-রাণী নির্বাচিত হবে, সবাই মিলে কনসার্ট করবে; সব মিলে অসাধারণ এক ঐতিহ্য। অথচ এই ‘র‍্যাগ’ শব্দটিই আবার জাহাঙ্গীরনগরে নবীন শিক্ষার্থী আর তাঁদের বাবা-মায়েদের জন্য বিরাট আতঙ্ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বদনামের কারণ। এমনকি ‘র‍্যাগ’ দিয়েও ছোটদের সাথে বড়দের সুন্দর সম্পর্ক হতে পারে। ছোটদের জন্য বড়রা মজাদার খাবার, গিফট কিনে দিয়ে, গান গেয়ে, গাইয়ে, নেচে, নাচিয়ে, গল্প বলে, বলিয়ে ‘র‍্যাগ’ দেয়া যেতে পারে। যে জুনিয়রকে আমি আজ অশ্লীলভাবে ‘র‍্যাগ’ দিচ্ছি, সে কদিন পর আমাকে চারআনার দামও দেবে না। উল্টো জুনিয়র এর হাতে মার খাওয়া লাগতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এমন কিছু ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটেছে।  

আমার মনে হয় বাইরের মানুষ এবং নবীন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য ‘র‍্যাগ’ শব্দ নিয়ে সঠিক বার্তা  দিতে ব্যর্থ হয়েছে সাম্প্রতিককালের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। আমরা যেহেতু র‍্যাগের নামে নির্যাতন আমরা শতভাগ বন্ধ করতে পারিনি, তাই এই ব্যর্থতা সকলের। আমাদের সব ভালো কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন দুর্বৃত্ত।

আমার ধারণা ছিল, ৪৬তম আবর্তনকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দিয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থী, শিক্ষকগণ ও প্রশাসন। কিন্তু বিভাগ আর হল এক জায়গা নয়। তবে সিএসই বিভাগেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যাচ্ছে। বিভাগে এমন ঘটনা ঘটলে ছেলে-মেয়েরা যাবে কোথায়? বিভাগ হল সবচেয়ে নিরাপদ আর মজার জায়গা। এরপরেও কেন সিএসই বিভাগে এই ঘটনা ঘটল? সাম্প্রতিককালে প্রায় প্রতিবছরই দুই/একটা সিরিয়াস ঘটনা ঘটে জাহাঙ্গীরনগরে। সবাই করে না, কেউ কেউ করে। ৪৬ এর কারও সাথে হয়ত ৪৫ এর কেউ করেছিল, তাই ৪৬ এর ভিকটিমরা এবার প্রতিশোধ নিয়েছে। নিজেরা ফাঁপর খেয়ে, নতুনদের জন্য অপেক্ষা করে। নতুনরা আসলে এই মুষ্টিমেয় ভিকটিমগণ নিজেরা ভিলেনের চেহারায় অবতীর্ণ হয়। এভাবে চলতে থাকে র‍্যাগের নামে নির্যাতনের ধারাবাহিকতা।

সব দায়-দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উপর পড়ে। কিন্তু প্রতিটি বিভাগের চেয়ারপার্সন রয়েছে, ছাত্র উপদেষ্টা রয়েছে; হলে হলে প্রভোস্ট রয়েছে, আবাসিক শিক্ষকরা রয়েছেন, বিশাল কর্মচারীর বহর আছে, ছাত্রলীগ আছে, ছাত্র ইউনিয়ন আছে। জাহাঙ্গীরনগরের পরিচিত মুখ ৪২তম আবর্তনের ছাত্র ইদ্রিস আলী গিয়েছিল কোনো একটি হলে অবস্থান করা ৪৭ তম আবর্তনের তার এক চাচাতো ভাইকে দেখতে। কিন্তু ৪৭ তম আবর্তনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সে হলের ৪৬তম আবর্তনের এক ছেলে বলে দিয়েছে, দেখা করা যাবে না, নিয়ম নেই! মহাক্ষুব্ধ ইদ্রিস আলী অনেক কষ্ট নিয়ে ফেসবুকে লিখে অভিযোগ দিয়েছে।  এই নবীনদের জন্য কি তবে হলে কোনো প্রশাসন নেই? একটি ছেলে কীভাবে বলে, ৪৭ এর কারো সাথে দেখা করা যাবে না। ও বলার কে? কে তাকে এই সাহস দিয়েছে?

অথচ ভর্তি পরীক্ষার সময় এসব পরীক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মার জন্য হলে নিজের রুম ছেড়ে দিয়ে সাত/আটদিন প্রায় নির্ঘুম রাত কাটায় জাহাঙ্গীরনগরের শত শত শিক্ষার্থী। যে ৪৬ ব্যাচকে নিয়ে এত কথা হচ্ছে, সেই ব্যাচই কদিন আগে জাহাঙ্গীরনগরের পরিবেশ, প্রতিবেশ নিয়ে এক দারুণ আন্দোলন করে ক্যাম্পাসে দারুণ ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে।  অথচ এখন সবার সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ৪৬ ব্যাচ। জাহাঙ্গীরনগরে ব্যাচ-ই মূল পরিচয়। সবাই মিলে অনেক মিথস্ক্রিয়া হয়। নানা প্রোগ্রামে প্রতিটি ব্যাচ নিজেদের বন্ধন দৃঢ় করে। কিন্তু কিছু দুর্বৃত্ত শিক্ষার্থীর জন্য পুরো ব্যাচকে এখন সমালোচনা সহ্য করতে হচ্ছে।

৪৬তম ব্যাচের সবার উচিত হবে, যারা মিজানকে আপাত ‘এবনর্মাল’ করে দিয়েছে তাদের নাম, পরিচয় প্রশাসনকে অবহিত করা। সবাইকে বুঝতে হবে, এতে ব্যাচের বদনাম হবে না। বরং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে সবাই ৪৬ ব্যাচকে বাহবা দিবে। আর যদি এই ঘটনার বিচার না হয়, এবং ৪৬ ব্যাচ দুর্বৃত্তগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, তাহলে সাবেক-বর্তমান সবার কাছে নিচু হয়ে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। সবাই সবকিছু দেখে, সব বুঝে। ক্যাম্পাস জীবনই সব নয়।

প্রকৃতির বিচার বড় বিচার। যারা মিজানকে ‘র‍্যাগ’ দিয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের কারো সন্তান জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি হতে পারে। তখন বলা যায় না, নিজের সন্তানের সাথে আরও ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের যে কারও সন্তানের সাথে হতে পারে। নিজের সন্তানের সাথে হলে সবাই বুঝতে পারবেন কষ্ট কত প্রকার ও কি কি? এখন প্রশ্ন হল র‍্যাগের নামে নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধ করা যায় কীভাবে? কোনো একটি ব্যাচকে পুরোপুরি র‍্যাগের নামে নির্যাতন থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারলেই পরের বছর আর হবে না বলে আমার বিশ্বাস। এমনটা করতে হলে হলের প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষক,  প্রক্টরিয়াল টিম, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, বিভাগীয় সভাপতি, ছাত্র উপদেষ্টা, সাধারণ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং অবশ্যই বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সবাইকে তৎপর থাকতে হবে।

গঠনমূলক, সৃজনশীল এবং স্বস্তিদায়ক ‘র‍্যাগ’ দিয়ে একে অপরের পরিচিত হতে দোষের কিছু নেই। বড়রা ছোটদের আদর করবে, ছোটরা বড়দের সম্মান করবে, ভালোবাসবে। খুব সিম্পল হিসেব। কিন্তু এই সিম্পল হিসেবের সবচেয়ে বড় বাধা সৃষ্টি করে রেখেছে রাষ্ট্র নিজেই। গণরুমের এক সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছে জাহাঙ্গীরনগরে। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্র হারিয়ে ফেলছে জাহাঙ্গীরনগর। সবার জন্য মোটামুটি থাকার ব্যবস্থা করতে পারছে না জাহাঙ্গীরনগর। রাষ্ট্র থেকে বেশি করে অর্থ প্রদান করতে হবে। দ্রুত করতে হবে। বিভাগের শিক্ষকদেরও সদা তৎপর থাকতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো-মন্দের খবর জানতে হবে। ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে না। বিশেষ করে নবীনদের ক্ষেত্রে সবার আরও যত্নশীল হতে হবে। নবীনরা নাজুক মন নিয়ে ক্যাম্পাসে আসে। তাঁদের সাথে জোর করে পরিচিত হওয়া, জোর করে ম্যানার শেখানোর নামে নিজেকে জাহির করার  মানসিকতা বাদ দিতে হবে। যার যোগ্যতা আছে সে এমনিতেই ক্যাম্পাসে রাজা-রাণী হয়ে থাকবে।           

লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Close