খালেদার কারাবাস প্রলম্বিত হবে কি না আদালত জানে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৪২ | প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:৩১

দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রলম্বিত হবে কি না, সে বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের জোয়ারসাহারা এলাকায় বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজার পর থেকে খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং জামিন আবেদনের বিষয়ে আইনজীবীদের চেষ্টার মধ্যে বিএনপি নেত্রীকে আরও দুটি মামলায় আদালতে হাজিরার পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

আবার ২০১৫ সালে কুমিল্লায় বাসে পেট্রল বোমা হামলা চালিয়ে আট জনকে হত্যা, ২০১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে নড়াইলে করা একটি মামলা এবং ২০১৬ সালে ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এসব পরোয়ানায় এখন তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় কি না, এ নিয়েও প্রশ্ন আছে।

এ কারণেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বের হতে পারবেন কি না-সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তবে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সচিবালয়ে জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হাইকোর্টের আপিল করলে জামিন দিলে তো তিনি বাহিরে থাকবেন। এখন সেটা তো আদলতের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে, সবকিছু মিলিয়ে তাঁর কারাবাস আরও প্রলম্বিত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।’

‘আমি এ কথা বলতে পারি, সরকার এ ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করবে না, আগেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’

সরকারের কারণে রায়ের কপি পেতে বিলম্ব হওয়ায় আপিলেও দেরি হচ্ছে-বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের এমন অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন কাদের। বলেন, ‘মওদুদ আহমেদের মন্তব্য নিয়ে দেশের মানুষের সবসময়ই সংশয় থাকে। কারণ তিনি নিজেই ভুয়া কাগজ দিয়ে অবৈধভাবে বাড়ি দখল করতে চেয়েছিলেন।’

‘মওদুদ আহমেদের মত বিজ্ঞ আইনজীবী থাকতে কেন আদলতের কাগজপত্র পেতে দেরি হচ্ছে? এর জবাব তো আদালতই দেবে, সরকার এ জবাব দেবে কেন? আদালতের কাছে এ জবাবটা খুঁজুক মওদুদ আহমদ।’

জনগণ আন্দোলনে মুডে নেই

খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি দুর্বার আন্দোলনের হুমকি দিলেও ওবায়দুল কাদের মনে করেন, বিএনপি সেটা পারবে না। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন নির্বাচনে মুডে চলে গেছেন। এখন আর আন্দোলনের মুডে জনগণ নেই।’

‘বিএনপির আন্দোলনের হাঁকডাক যেভাবে দেয়, সেখানে জনগণ সাড়া না দিলেতো কোন আন্দোলন হবে না। তাদের নেতারাই তো মাঠে আসে না। বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে তাদের কয়জন নেতা মিছিল মিটিং এ অংশ নিয়েছে, তা খবর নিয়ে দেখুন।’

‘নেতারা আন্দোলন ডেকে এয়ারকন্ডিশন্ড রুমে বসে থাকেন, আরাম আয়েশে দিন কাটান, মাঝে মধ্যে পুলিশের গতিবিধির খবর নেন। তাহলে আন্দোলন কীভাবে সম্ভব?’।

‘আমরা আন্দোলন করেছি বিএনপির সময়ে,  আমাদের নেতারা রাজপথে ছিল। এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র, হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ নেই।’

কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতারা ভেবেছিলেন বেগম জিয়া কারাগারে গেলে লক্ষ লক্ষ লোক রাস্তায় নেমে আসবে। ওই আগে সিপাহী জনতা জেগে উঠো... তারা  মনে করেছিল এখনও দেশে সেই অবস্থা আছে। তাঁরা প্রত্যাশা করেছিল, বেগম জিয়ার জন্য লাখ লাখ লোক রাস্তায় নামাবে। কিন্তু শত শত লোকও রাস্তায় নামে নাই। তাঁরা আন্দোলন করবে কী করে?’।

বিএনপির মত প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্বাচনে চাই

গত নির্বাচনে বিএনপি না থাকায় সহজ জয় পাওয়া আওয়ামী লীগ এবার আর সেই পরিস্থিতি চায় না বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘আমরা বিএনপির মতো একটা প্রতিদ্বন্দ্বী দল চাই। নির্বাচনতো অনেকই করবে। বিএনপি একটি বড় দল। আমরা চাই তাঁরা নির্বাচনে আসুক এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক।’

‘বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে গেলে আমরা খুব খুশি হব বা এর প্রতিক্রিয়া আমাদের জন্য উৎসাহমূলক হবে, সেটা ঠিক নয়।’

খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতাদের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘বিএনপি একবার বলছে যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাবে। আবার বলছে বেগম জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। এখন তারাই বলতে পারে কোনটা সঠিক।’

খালেদা জিয়ার সাজা চূড়ান্ত কোনো রায় নয় জানিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘তার মামলার আপিলের সুযোগ আছে। হাইকোর্ট আছে, আপিল বিভাগ আছে, রিভিউ আছে। বিচারিক আদালতে যে রায় হয়েছে সেটা তো নাও থাকতে পারে।’

বিএনপি ভাঙায় সরকারের চেষ্টা নেই

খালেদা জিয়ার রায়ের আগ থেকেই বিএনপির নেতারা দল ভাঙা নিয়ে উদ্বিগ্ন। রায়ের আগে নির্বাহী কমিটির বৈঠকেও দলের ‘বেইমানদের’ সতর্ক করেছেন খালেদা জিয়া।

সোমবার রাজধানীতে এক আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন বিএনপিতে ভাঙন এখন সময়ের ব্যাপার।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আমি চাই না বিএনপির মত একটা বড় দল ভেঙে যাবে এবং সেই চেষ্টাও আমরা করি না।’

‘বিএনপি ভাঙার জন্য বিএনপি নিজেরাই দায়ী এবং বিএনপির সংকট আমরা কেন ঘনীভূত করব? বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট ঘনীভূত করার জন্য তারেক জিয়াই যথেষ্ট।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলাকারী বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।

ঢাকাটাইমস/১৩ফেব্রুয়ারি/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত