প্রাণের উৎসবে বসন্তের ছোঁয়া

বোরহান উদ্দিন ও জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:০৮

ঋতুরাজ বসন্তের দিন বলে কথা। ফাগুনের শুরুর দিনে ভিন্ন রূপে দেখা গেছে অমর একুশে বইমেলার চারিদিক। বাসন্তী রঙের সঙ্গে সব বয়সী নারীদের মাথায় শোভা ফুলের টায়রা। ছেলেদের পরনে ছিল হলুদ রঙের পাঞ্জাবি।

অন্যান্য দিনও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আগমন ঘটে বইমেলায়। তবে আজ দেখে মনে হবে সবাই বোধহয় যুক্তি করে এক পোশাকে এসেছে!

মেলা ঘুরে দেখা যায়, যারা আজ মেলায় এসেছেন তাদের বেশির ভাগই এসেছেন ঘুরতে। বইয়ের স্টলের চেয়ে তাই মূল সড়ক আর মেলার ভেতরে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে অনেককে। অনেকে পছন্দের জায়গায় সেলফি তুলছেন। কেউ আবার চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন।

তবে এতেই আনন্দ লেখক ও প্রকাশকদের। তারা বলছেন, মেলায় যারা আসবেন সবাই বই কিনবেন তা নয়। কিন্তু মানুষ যত আসবে তত মেলা প্রাণ পায়। উৎসবের দিনে বিশেষ করে তরুণরা অন্য কোথাও যেতে পারতেন।

মঙ্গলবার বেলা তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, শহীদ মিনারসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিল মানুষের ঢল।

বাংলা একাডেমির সামনের সড়কে দেখা গেছে, তিনজন তরুণী ও দুইজন তরুণ এক ফ্রেমে সেলফি তুলছেন। কাছে গিয়ে কথা বলে জানা গেছে, তারা সিদ্বেশরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়াশোনা করেন। বন্ধুরা মিলে প্রথম দিন মেলায় এসেছেন। ঘোরাঘুরির সঙ্গে পছন্দের বই কিনবেন।

মারজান নামের একজন ঢাকাটাইমসকে বললেন, আজকের দিনটায় সবাইকে দেখতে সুন্দর লাগছে। মেলায় ঘুরতেও ভালো লাগছে। আমি ইতিহাসের বই কিনবো। ইতিহাস জানতে ভালো লাগে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে গিয়ে দেখা গেছে, একই পরিবারের ছয়জন এক ফ্রেমে সেলফি তুলছেন। কথা বলে জানা যায়, তারা কেরাণীগঞ্জ থেকে আসছেন। এদের মধ্যে একজন শারীরিকভাবে প্রতিবন্দী। বললেন, বইমেলাতে প্রায় প্রতি বছরই আসা হয়। ভালো লাগে।

তবে সবাই যে ঘুরছেন আর সেলফি তুলছেন তাই নয়। কেউ কেউ ঘোরাঘুরির ফাঁকে পছন্দের স্টলে গিয়ে পছন্দের লেখকের বই কিনছেন। তেমনি একজন কাওসার হোসেন।

ধানমন্ডি থেকে বান্ধবীকে নিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন। হাতে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে হেঁটে হেঁটে মেলা থেকে বের হচ্ছিলেন। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, তার পছন্দের লেখক হুমায়ূন আহমেদ। মেলা থেকে মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই বইটি কিনেছেন।

এছাড়াও মানিক বন্দোপধ্যায়ের চতুস্কোণসহ চারটি বই কিনেছেন এই তরুণ।

পরণে হলুদ শাড়ি আর মাথায় ফুলের টায়রা পরে বইমেলা ঘুরে বেড়াতে এসেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফিফা মারজানা। তিনি বলেন, কোনো প্ল্যানিং ছাড়াই তিনি হঠাৎ ঘর থেকে বের হয়ে এসেছেন। নগরীতে যানজট থাকা সত্ত্বেও সকাল থেকে অনেক জায়গায় ঘুরেছেন।

শুধু পাঠকদের মাঝেই না, বসন্তের এ আগামনী ছোঁয়া লেগেছিলো স্টলগুলোতেও। বিক্রয়কর্মীরাও সেজে এসেছিলেন বসন্তের রঙে।

তাম্রলিপি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী তরিকুল ইসলাম রনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, আজকে একটা উৎসবের দিন। আমরা ধরেই নেই বিশেষ করে তরুণ তরুণীরা ঘুরতে আসবেন, সময় কাটাতে আসবেন। আর সবাই বই কিনবে তা ঠিক নয়। বেশি বেশি মানুষের উপস্থিতি মেলায় প্রাণের সঞ্চার করে।

এদিকে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে যাতে করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও বেশ তৎপর দেখা গেছে। সন্দেহজনক কাউকে পেলে তারা তল্লাশি করে মেলার ভেতরে ঢুকতে দিয়েছে।

বিকালের দিকে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

আজ এসেছে ১৫০ বই

গ্রন্থমেলার ১৩ তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৫০টি বই। এরমধ্যে বাঁধন পাবলিকেশন্স এনেছে মীর আল তারিকের ‘নীলা’, সরল রেখা এনেছে আল মাহমুদের ‘জীবন যখন বাক ঘোরে’, সাহিত্য প্রকাশ এনেছে সাহাদাত পারভেজের ‘গণহত্যা গজারিয়া; রক্ত মৃত্যু মুক্তি’, ন্যাশনাল পাবলিকেশন্স এনেছে অধ্যাপক এসএম আনোয়ারার ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’, যুক্ত এনেছে হাসান আজিজুল হকের ‘আমার যেদিন গেছে ভেসে’, ঐতিহ্য এনেছে অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহর ‘সুস্থ থাকুন’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে মোহিত কামালের ‘দুরন্ত দুখু’, শ্রাবণ প্রকাশনী এনেছে আলফ্রেড খোকনের ‘উড়ে যাচ্ছে মেঘ’, কথা প্রকাশ এনেছে ড. মাহবুবুল হকের ‘ রুশ বিপ্লবের বিজয়গাথা’, বাংলা একাডেমি এনেছে শামসুজ্জামান খানের ‘ফোকলোর সংগ্রহমালা ১২১ লোক সঙ্গীত’, তাম্রলিপি এনেছে আহসান হাবীবের ‘সত্যি অ্যাডভেঞ্চার’, শানারেই দেবি শানুর ‘ত্রিভূজ’।

(ঢাকাটাইমস/১৩ফেব্রুয়ারি/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত