খালেদার সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে এলেন তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:৪৩ | প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:২২

দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী শিরিন সুলতানার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন সাবেক সংরক্ষিত আসনের এমপি ও মহিলা দলের নেতারা। তবে কারা আইনের বেড়াজালে পড়ে অবশেষে সাক্ষাৎ ছাড়াই ফিরে আসতে হয় তাদের।

একই অবস্থার শিকার হতে হয়েছে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায়ের নেতৃত্বে প্রায় চারশ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীকে। বিএনপি প্রধানের জন্য ভ্যানভর্তি করে বিভিন্ন প্রকারের ফল নিয়ে এসেছিলেন তারা।

নিপুণ রায়দেরকেও একইভাবে কারা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে ফল নিয়ে চলে যেতে হয়েছে।

দুটি ঘটনাই ঘটেছে সোমবার সকাল দশটার পর থেকে দুপুর একটার মধ্যে।

কেরাণীগঞ্জ থেকে ফল নিয়ে নেতাকর্মীরা সকাল দশটার পর আসেন পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে। এভাবে কারাগারের ভেতরে সরাসরি ফল পাঠানোর সুযোগ নেই সে কথা জানিয়ে তাদের অনুমতির জন্য পাঠানো হয় কারা অধিদপ্তরে। ফল পাঠানো ও সাক্ষাৎ চেয়ে দুটি আবেদন নিয়ে নিপুণ রায়সহ অন্যরা কারা মহাপরিদর্শকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে জানতে পারেন তিনি দেশের বাইরে। পরে দপ্তরের কর্মকর্তারা কথা বলেন কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারের সঙ্গে।

সেখান থেকে খবর আসে এই মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং ফল পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। পরে তারা চলে আসেন।

ঢাকাটাইমসকে একথা জানিয়ে নিপুণ রায় বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম যদি সাক্ষাতের সুযোগ নাও দেয়া হয় তাহলে যেন খাবারটা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু তারা কোনো সুযোগ দেননি। পরে আমরা চলে এসেছি।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। রায়ের অনুলিপি এখনো না পাওয়ায় তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদনও করতে পারছেন না।

কারাগারে নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্যরা দুই দফা এবং আইনজীবীরা সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছেন। এর বাইরে দুই একদিন পরপর নেতকর্মীদের কেউ ফল ফলাদি নিয়ে সাক্ষাৎ করতে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে যাচ্ছেন। তবে আইনের বাধা থাকায় সাক্ষাৎ না করেই ফিরে আসতে হচ্ছে তাদের।

এরপর বেলা পৌনে ১২টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে যান মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানার নেতৃত্বে সাবেক এমপি ও মহিলা দলের নেতারা।

তাদেরকেও এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই চলে আসতে হয়েছে।

শিরিন সুলতানার সঙ্গে ছিলেন সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রেহানা আক্তার রানু, বিলকিস ইসলাম, ফাহিমা খানম জুবিলি, লায়লা বেগম। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রোকসানা খানম মিতু, আয়শা সিদ্দিকী মানি, নুরজাহান মাহবুব, ফরিদা ইয়াসমিন। মহিলা দলের নেত্রীদের মধ্যে ছিলেন বিথি চৌধুরী, শাহেদা মোর্শেদ, রাশেদা ওয়াহিদ মুক্তা, রিটা আলী, রুমা গাজি প্রমুখ।

শিরিন সুলাতানা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের এই গেট, অধিদপ্তর ঘুরানোর পর বলা হলো কোনো সুযোগ নেই। এটা কারা অধিদপ্তরের কারসাজি। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে আমাদের নেত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে নেয়ার পর জনগণ ও নেতাকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এসব করছে। বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার এসব করছে।

(ঢাকাটাইমস/১৯ফেব্রুয়ারি/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত