খালেদার সঙ্গে ফাতেমার ‘কারাবাস’ আগেও হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:৫৮

দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বেগম খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমা এর আগেও বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে ‘বন্দী’ জীবন কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও খালেদা জিয়াকে বন্দী করার সময় তার সেবা করেছেন ফাতেমা।

সোমবার গণভবনে করা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তবে সে সময় এই বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর থেকে কারাগারে খালেদা জিয়ার দেখাশোনা করছেন তার ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতেমা। রায়ের দিন আদালতে আসার সময়ই তাকে নিয়ে এসেছিলেন বিএনপি প্রধান। পরে কারাগারেও ফাতেমাকে নিয়ে যান তিনি।

ফাতেমাকে কারা কর্তৃপক্ষ শুরুতে ফিরিয়ে দিলেও পরে আবার তাকে নেয়া হয়। আর ফাতেমার বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন রিট আবেদন করতে না পারে সে জন্য তার কাছ থেকে স্বেচ্ছা কারাবন্দী হওয়ার বিষয়ে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, ‘বেশি কিছু দেয়া হয়নি, একজন মেইড সার্ভেন্ট দেয়া হয়েছে। এরপর যদি আরও কিছু ডিমান্ড করে, তাহলে কী করবেন?’।

‘কেউ আছে ভাগ্যবতী, নিতেই পারে’ এমন মন্তব্য করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার সঙ্গে খালেদা জিয়ার সুযোগ সুবিধার পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

‘তত্ত্বাবধায়কের আমলে যখন আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো, আমাকে নিয়ে একটা নোংরা, পুরনো ফাঙ্গাস পড়া বাড়িতে রাখা হলো। একটা পুরনো খাট, বসার সাথে সাথে সেটা ভেঙে গেল।’

‘তখন ডিআইজি প্রিজন বলেন, ইট দিয়ে উঁচু করে দিলেই চলবে। উঁচু করে দেয়ার পরও দেখলাম, সেখানে বসা যাচ্ছে না, শোয়া তো দূরের কথা। ইদুরে কাটা চাদর, এগুলো দেয়া হলো।’

‘কিন্তু খালেদা জিয়াকে যখন আনা হলো, তখন তাকে বাসা হলো এখন মামনীয় স্পিকারের যে বাড়ি। সেই বাড়িতে তাকে রাখা হলো, তিনি রুম পছন্দ করলেন, কোন রুমে থাকবেন। তিন দফা তার গদি পরিবর্তন করা হলো। তার পছন্দমত গদি দেয়া হলো এবং তার পছন্দ মতো তাকে মেইড সার্ভেন্ট দেয়া হলো। তখন কিন্তু তথ্যটা গোপন ছিল। হ্যাঁ, এই ফাতেমাই ছিল।’

সে সময়ের আলোচিত ডিআইডি প্রিজন শামসুল হায়দার সিদ্দিকীকে জিজ্ঞেস করলেই সব জানা যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে মেইড সার্ভেন্টকে (ফাতেমা) ওখানে নিয়ে রাখল।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, সে সময় তার খাবার আসত কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। কিন্তু সিডরের পর এক দিন সারাদিন খাবার আসেনি, আর তাকে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। এরপর একজনকে বাবুর্চি হিসেবে দেয়া হয় এবং এরপর থেকে সেখানেই রান্না হতো।

খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন আমার সাথী আসে নাই, তখন আমার প্রতিবেশী আসেনি। তখন একজন বাবুর্চি এনে দিল। আমি যে বিল্ডিংয়ে ছিলাম, তার নিচে সেই পাকের ঘরে রান্নার ব্যবস্থা হলো। রান্না করে যেটুকু থাকত, ওই বেচারা খেতো।’

‘কিন্তু খালেদা জিয়াকে আনার পর তার মেইড সার্ভেন্ট আনার পর অর্ডার হলো যেটুকু বাঁচে, তাকে দিয়ে দিতে হবে। ফলে আমার বাবুর্চির জন্য আর কিছু থাকল না।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে বিচার বন্ধে বিদেশ থেকে যেভাবে ফোন এসেছিল, খালেদা জিয়ার বিচার নিয়ে এমন কোনো অনুরোধ পেয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার কিন্ত কেউ ফোনও করেনি। এমনকি যাদের সাথে দেখা হচ্ছে, তারা এ বিষয়ে কেউ প্রশ্নও করছে না। এই দিক থেকে এটা বেশ ভালো লক্ষণ। এটা ঠিক, দুর্নীতির জন্য সাজাপ্রাপ্তদের নিয়ে কেউ মনে হয় কিছু বলে টলে না।

ঢাকাটাইমস/১৯ফেব্রুয়ারি/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত