খালেদার রায়ের কপি পড়ে অবাক মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:৫৪ | প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:৫৫
ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার  রায় পড়ে অবাক হয়েছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, রায়ের পাঁচ ভাগের চার ভাগই অবান্তর। এমনকি খালেদা জিয়ার বক্তব্যের একটি বাক্যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বাদ দিয়ে এর অর্থ বদলানো হয়েছে।

বিশেষ জেলা জজ আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বিকালে হাইকোর্টে আপিল দায়েরের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। আগামী বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার পক্ষে এ আপিল আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ বলেন, ‘মূল রায়টি আমরা পড়েছি। আমরা পড়ে অবাক হয়েছি। পাঁচ ভাগের চার ভাগই একেবারে অবান্তর।  সেগুলো কোনো গ্রাউন্ডস না, কিন্তু সবই দিয়েছেন উনি (বিচারক)। মর্জি হয়েছে দিয়েছেন। রায় যত বড় দেখতে (১১৬৮ পৃষ্ঠা) মনে হচ্ছে, আসলে কিন্তু পাঁচ-ছয় পাতা হলো মূল।’

আদালতে দেয়া খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যের যতিচিহ্ন বদলে এর অর্থ বদলের অভিযোগ করেন মওদুদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা উদাহরণ দেই আপনাদের এবং আপনারাও টেলিভিশনে স্ক্রলিং করেছেন- বেগম জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তিনি তা স্বীকার করে নিয়েছেন। এটা মিথ্যা, সম্পূর্ণ অসত্য। একটি কথা আজকে রায়ের মধ্যে লিখে এবং সারা দেশের মানুষের মধ্যে প্রচার করা হলো, এটাও এই একই ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।’

মওদুদ বলেন, “বেগম জিয়া এক জায়গায় বক্তব্যে বলেছেন ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে নির্বিচারে গুলি করে। প্রতিবাদী মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের হত্যা করা হচ্ছে। এগুলো কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়? ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি?’ সেই প্রশ্নবোধক চিহ্নটাকে উঠিয়ে দিয়ে এখানে একটা দাঁড়ি দিয়ে দিয়েছে।’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশ্নবোধক চিহ্নটাকে তুলে দিয়ে সেখানে দাঁড়ি দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বেগম জিয়ার মূল বক্তব্যে প্রশ্নবোধক চিহ্নটা আছে দাবি করে মওদুদ বলেন, ‘যখন বিচার হবে আমরা রেকর্ড কল করাব যাতে এটা পরীক্ষা করে দেখা যায়। কোনো আসামি এই পর্যায়ে গিয়ে বলতে পারে না তিনি নিজে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সুতরাং এটা সম্পূর্ণভাবে অবাস্তব এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এটা করা হয়েছে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য।’

উচ্চ আদালতে আপিলে খালেদা জিয়া জামিন পাবেন বলে আশা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মওদুদ। তিনি বলেন, ‘দুইটা আদালত আছে এ ধরনের মামলা শুনানি করার জন্য। আমরা সিনিয়র বেঞ্চে গিয়েছি। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং আমরা সবাই তাকে শ্রদ্ধা করি। আমরা সেই সিনিয়র বেঞ্চে গেছি। আগামী বৃহস্পতিবার আমরা জামিন প্রার্থনা করব। ইনশাল্লাহ তার আপিল গ্রান্টেড হবে। সেদিন তিনি জামিনও পেতে পারেন।’

তার এই আশাবাদের কারণ হিসেবে মওদুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি বলে আমরা মনে করি। তিনি নির্দোষ এবং তিনি আপিলে খালাস পাবেন।’  

২ কোটি ১০ লাখ টাকা ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা অনিয়মের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি করে দুদক। খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয় মামলায়। বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ জেলা জজ আদালত গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং  তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

(ঢাকাটাইমস/২০ফেব্রুয়ারি/এমএবি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত