খালেদা জিয়ার আপিল ও জামিন শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:৩৭ | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:২৪

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করা হবে কি না, তার শুনানির অপেক্ষায় বিএনপি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা বিচারের জন্য নির্ধারিত দুই বেঞ্চের একটিতে এই শুনানি হবে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদনটি শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয় মঙ্গলবার আবেদন করার দিনই।

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনও করা হবে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, এই শুনানি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ, আপিল গ্রহণ না করা এবং জামিন আবেদন ফিরিয়ে দেয়ার মতো কোনো কারণ দেখছেন না তারা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দীন খোকন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের গ্রহণযোগ্যতার উপর শুনানি হবে। এছাড়া ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) জামিন আবেদনের উপরও শুনানি হবে।’

২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর এবং তার ছেলে তারেক রহমান ও আরও চার আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

১১দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি এক হাজার ১৭৬ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। পরদিন আপিল করেন বিএনপি নেত্রী। ওই দিনই আপিলের গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য দিন নির্ধারণে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়।

আপিল আবেদনে মোট ৪৪টি যুক্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে যেসব যুক্তি উল্লেখ করে খালেদা জিয়াকে দণ্ড দেয়া হয়েছে, সেগুলো খণ্ডনের চেষ্টা করা হয়েছে।

বিএনপি নেত্রীকে দেয়া দণ্ডের রায়ে বিচারক আখতারুজ্জামান বলেছেন, ১৯৯১ সালের ৯ জুন প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের অনুদান হিসেবে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার বাংলাদেশে আসে। এটা জমা হয় প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে। এই টাকা পরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠান খালেদা জিয়া।

সে সময় সেনানিবাসের মইনুল রোডে তার বাসভবনের ঠিকানায় খোলা হয় ট্রাস্ট। এর সেটেলার ছিলেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো এবং জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ছিলেন ট্রাস্টি। কিন্তু এতিমখানা না করে টাকাটা পরে মাগুরার সংসদ সদস্য কাজী সলিমুল হক কামালের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে এফডিআর করা হয়। পরে সে এফডিআর ভেঙে ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের নামে পাঠানো হয়।

রায়ে আদালত বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কীভাবে একটি বেসরকারি ট্রাস্টের দাপ্তরিক ঠিকানা হতে পারে তা বোধগম্য নয়। আদালত এমনও মনে করে যে, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল একটি সরকারি তহবিল। ওই তহবিলের টাকা এ দেশের এতিম ও এতিমখানার উন্নয়নের জন্য ব্যয় করার বিধান আছে কিংবা থাকা উচিত ছিল।

তবে আপিলে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন। তাকে ‘প্রতিহিংসা’ থেকে ২০০৮ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার বিরুদ্ধে মামলার উদ্যোগ নেয়।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই মামলার অনুসন্ধানে প্রথমে মামলা করার মতো কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করা হয় আপিলে। ওই অনুসন্ধান কর্মকর্তা মামলার ৩২ নম্বর সাক্ষী তা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করা হয় আপিলে।

আবেদনে বলা হয়, ‘এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে তৎকালীন সেনাসমর্থিত সরকার সাধারণ নির্বাচন থেকে বিরত রাখার জন্য মামলাটি দায়ের করেছিল।’

আপিলে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় যে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছিল সে বিষয়ে আসামিপক্ষের দাখিল করা নথি বিবেচনায় আনেনি বিচারিক আদালত। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের প্রদর্শিত নথি বিবেচনায় নিয়ে ‘অপরিপক্কভাবে’ বিচার শেষ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, বিচারিক আদালত কোন ধরনের নথি এবং রেকর্ড ছাড়াই এবং কোন কিছু বিবেচনা না করেই ‘বেআইনি এবং অযৌক্তিকভাবে’ কামাল সিদ্দিকীর (সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব) দেয়া চিঠি এবং সিডি গ্রহণ করেছে। তবে ৩৪২ ধারার অধিনে খালেদা জিয়ার দেয়া ‘গুরুত্বপূর্ণ’ নথি গ্রহণ না করে বিচারেরর অপরিপক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে।

যুক্তিতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারী কারযবিধি ২২১, ২২২, ২২৩, ২৩৫ ও ২৩৯ ধারা লংঘন করে অভিযোগ গঠন করার অভিযোগও আনা হয়।

আপিলে আরো বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া নিজের নামে কোন একাউন্ট খুলেননি। নিজে হিসাব পরিচালনা করবেন বা হালনাগাদ করবেন এ জাতীয় কোন তথ্যও নাই।

খালেদা জিয়া স্বাক্ষরিত কোন ফাইল বা চেক পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয় আপিল আবেদনে। বলা হয় অর্থ স্থানান্তর সংক্রান্ত বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কোন আদেশ বা নির্দেশ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা।

(ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/এমএবি/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত