৩২ যুক্তিতে খালেদার জামিনের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৪৯ | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:৫৮

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বাতিলে ৪৪ যুক্তিতে আপিলের পর এবার ৩২ যুক্তিতে করা হয়েছে জামিন আবেদন।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এই জামিন আবেদন করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম আইনজীবী রা‌গিব রউফ চৌধুরী।

৮৮০ পৃষ্ঠার এই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ৭৩ বছর বয়স্ক এবং নানা শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সু‌নি‌র্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ও অভিযোগ ছাড়াই দণ্ড দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনে।

বেলা ১২টায় ‌বিচারপ‌তি এম ইনায়েতুর র‌হিম ও স‌হিদুল করিমের বেঞ্চে আপিলের গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি জামিনের শুনানিও হবে। ডেপু‌টি অ্যাট‌র্নি জেনারে‌ল ফরহাদ হোসেনের সময় আবেদনের প‌র এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানান বিচারক ইনায়েতুর রহিম।

বিদেশ থেকে এতিমদের জন্য আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সলিমুল হক কামাল, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কামাল আহমেদ সিদ্দিকী এবং ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর এবং অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। সেদিন থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।

রায়ে বিচারক আখতারুজ্জামান বলেছেন, ১৯৯১ সালের ৯ জুন প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের অনুদান হিসেবে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার বাংলাদেশে আসে। এটা জমা হয় প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে। এই টাকা পরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠান খালেদা জিয়া।

সে সময় সেনানিবাসের মইনুল রোডে তার বাসভবনের ঠিকানায় খোলা হয় ট্রাস্ট। এর সেটেলার ছিলেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো এবং জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ছিলেন ট্রাস্টি। কিন্তু এতিমখানা না করে টাকাটা পরে মাগুরার সংসদ সদস্য কাজী সলিমুল হক কামালের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে এফডিআর করা হয়। পরে সে এফডিআর ভেঙে ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের নামে পাঠানো হয়।

রায়ে আদালত বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কীভাবে একটি বেসরকারি ট্রাস্টের দাপ্তরিক ঠিকানা হতে পারে তা বোধগম্য নয়। আদালত এমনও মনে করে যে, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল একটি সরকারি তহবিল। ওই তহবিলের টাকা এ দেশের এতিম ও এতিমখানার উন্নয়নের জন্য ব্যয় করার বিধান আছে কিংবা থাকা উচিত ছিল। খালেদা জিয়া ও অপর আসামিদের রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধী বলেও ঘোষণা দেয় আদালত।

১৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পরদিন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আপিল করা হয় হাইকোর্টে। আজ বৃহস্পতিবার এই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি হবে।

ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/এমএবি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত