টিআই সূচকে দুর্নীতি ‘কমেছে’ বাংলাদেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:২৫ | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৩৪

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) বৈশ্বিক দুর্নীতির ধারণা সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেছে। বিশ্বের শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৭তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১৫ তে।

অবস্থানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে স্কোরও বেড়েছে বাংলাদেশের। এবার বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ২৮, গত বছর যা ছিল ২৬।

একই পরিমাণ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সমান অবস্থানে রয়েছে গুয়াতেমালা, কেনিয়া, লেবানন ও মৌরতানিয়া।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির ধারণা সূচক-২০১৭ প্রকাশ করে টিআইএর বাংলাদেশ শাখা টিআইবি।

বাংলাদেশে দুর্নীতির প্রকোপ একটি সাধারণ সমস্যা। দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব যেমন প্রকট, তেমনি সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি সংস্থায় ও প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষের প্রবণতাও আছে ব্যাপকহারে।

দুর্নীতির এই প্রকোপের মধ্যে ২০০১ সালে বাংলাদেশ টিআই সূচকে পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে অবস্থানে পড়ে যায়। সে সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় পড়তে হয়। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে টানা পাঁচ বছর বাংলাদেশ সূচকে পৃথিবীতে সবচেয়ে তলানিতে অবস্থান করেন।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে শুরু প্রায় প্রতি বছরই সূচক এবং স্কোরে উন্নতি হয়ে আসছে বাংলাদেশের।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, টিআই-এর জরিপ অনুযায়ী, দুর্নীতির বিচারে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৩। ধারণা সূচক অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। প্রথম স্থানে আছে আফগানিস্তান।

দক্ষিণ এশিয়ায় দুই আলোচিত দেশ ভারত আছে নিচের দিক থেকে ৮১ নম্বরে। আর পাকিস্তানের অবস্থান ১১৭তে।

 

মোট ১৮০টি দেশের মধ্যে টিআই-এর সূচকে এবার শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হয়েছে সোমালিয়া। তাদের স্কোর ১০০ তে ৯। সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ নিউজিল্যান্ড। তাদের স্কোর ১০০ তে ৮৯।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদশে আইনি কাঠামো আগের চেয়ে শক্তিশালী হওয়ায় বাংলাদেশ দুর্নীতির সূচকে উন্নতি করেছে। তবে বাংলাদেশ গত বছরের তুলনায় দুর্নীতি সূচকে দুই ধাপ আগালেও এদেশের দুর্নীতি এখনও উদ্বেগজনক।’

সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই সময়ে দুর্নীতির সূচকে আরও বেশি উন্নতি হওয়া সম্ভব ছিল বলেও মনে করেন টিআইবি প্রধান।

‘রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, অর্থপাচার, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, ব্যাংকিং ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতা। এসব কারণে এ ধারণা সূচকে খুব বেশি উন্নতি হচ্ছে না বাংলাদেশের।’

টিআইবির বিশ্লেষণ বলছে, যেসব দেশে গণমাধ্যম ও বেসরকারি সংস্থার সুরক্ষা কমতির দিকে, সেসব দেশের দুর্নীতির সূচক সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে। তারাই সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। অতি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোতে দৈনিক অন্তত একজন সাংবাদিক নিহত হচ্ছেন।

‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট’ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গত ছয় বছরে দুর্নীতির ধারণার সূচকে যেসব দেশের সূচক ৪৫ কিংবা তার নিচে, সেসব দেশেই ১০ সাংবাদিকের মধ্যে অন্তত নিহত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক্সিকিউটিভ ওপিনিয়ন সার্ভে, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কান্ট্রি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের রুল অব ল ইনডেক্স, পলিটিক্যাল রিস্ক সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি রিস্ক গাইড, বার্টলসমেন্ট ফাউন্ডেশন ট্রান্সফরমেনশন ইনডেক্স, ইনফরমেশন হ্যান্ডেলিং সার্ভিসেস গ্লোবাল ইনসাইড কান্ট্রি রিস্ক রেটিং, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনস্টিউশনাল অ্যাসেসমেন্ট এবং ভেরাইটিজ অব ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট- এই সংস্থাগুলোর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই দুর্নীতির ধারণা সূচক তৈরি করা হয়েছে।

ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/এনআই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত