এতিমখানা কোথায়, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

তানিম আহমেদ ও রিমন রহমান, রাজশাহী থেকে
| আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:১২ | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৫৭

বিদেশ থেকে এতিমদের জন্য আসা টাকায় এতিমখানাটা কোথায় করা হয়েছে তার ঠিকানা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহী সফরে গিয়ে স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ প্রশ্ন রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন। কেন গ্রেপ্তার হয়েছেন? এতিমের টাকা ১৯৯১ সালে এতিমখানা তৈরি করবে বলে বিদেশ থেকে টাকা এনেছে। কিন্তু এতিমখানা কই? কেউ এতিমখানার ঠিকানা জানে না।’

‘টাকা নয় ছয় করে লুটপাট করে খেয়েছে। আর ২৭ বছর পরে বলে, টাকা তো আছে, সুদে আসলে বেড়েছে। এতিমের টাকা এতিমের কাছে যায় নাই। সে টাকা লুট করে খেয়ে নিয়েছে।’

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেখ হাসিনা পাঁচ মহানগর সফর শুরু করেছেন। ৩০ জানুয়ারি সিলেট, ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সফরের পর তিনি আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী এলেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী প্রথমে নাটোরের কাদেরাবাদ সেনানিবাসে গিয়ে কাদিরাবাদ সেনানিবাসে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স ষষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখান থেকে তিনি যান রাজশাহীতে।

বেলা তিনটায় মাদ্রাসা ময়দানে জনসভা শুরু হয়। এই সমাবেশকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল রাজশাহী আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সমাবেশ স্থলে আসার আগেই জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয় মানুষের ভিড় আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

মাদ্রাসা ময়দানে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রাজশাহীর উন্নয়নে নানা উদ্যোগ এবং প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তবে বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়েই ছিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা প্রসঙ্গ। ১৯৯১ সালে বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের জুলাইয়ে মামলা হয় খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে। আর এই মামলাতেই গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর এবং তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকারের ইশারায় এই সাজা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আর সাজার পর থেকেই তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে আসছে বিএনপি। পাশাপাশি আদালতে আপিলও করা হয়েছে।

মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলা দিয়েছে কে? মামলা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই মামলায় সাজা দিয়েছে, আজকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। লুট করা, চুরি করা, এটা তাদের চরিত্র।’

‘বিএনপি-জামায়াত যখন সরকারে ছিল পাঁচ বার বাংলাদেশ বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমেরিকার ফেডারেল কোর্ট তার (খালেদা জিয়া) ছেলে (তারেক রহমান) যে চুরি করেছে, ঘুষ খেয়েছে সে কথাটা তারাই বলেছে। সিঙ্গাপুর কোর্ট সেই একই কথা (আরাফাত রহমান কোকোর ঘুষ) বলেছে। এই টাকা দেশের কাজে লাগেনি, বিদেশে পাচার করেছে।’

খালেদা জিয়ার মু্ক্তির দাবিতে আন্দোলনকারী বিএনপি নেতাদের কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আজকে বিএনপি নেতারা আন্দোলন করে। কিসের আন্দোলন? টাকা চুরি করে তাদের নেত্রী জেলে গেছে। আন্দোলন চোরের জন্য?’

‘এতিমের টাকা চুরি করে খাওয়া কোরআন শরিফেও নিষেধ আছে। কোরআন শরিফেও বলা আছে, এতিমের টাকা চুরি করো না, এতিমকে দাও।’

‘২৭ বছরে এতিমের ভাগ এতিমকে দিতে পারে নাই। সেই টাকা তার নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। আর তারই শাস্তি আজকে সে ভোগ করছে।’

‘আমার এটাই প্রশ্ন, এতিমখানার ঠিকানাটা কোথায়, সেটা দিতে পার নাই, সেখানে কয়জন এতিম আছে, তার কোনো সংখ্যা নাই। এতিমরা কি এতটা টাকাও পেয়েছে এ পর্যন্ত? পায় নাই?’

‘তারা বলে এতিমের টাকা সুদে আসলে বেড়েছে। কিন্তু সুদের টাকা খেয়েছে কে? ভোগ করেছে খালেদা জিয়া আর তার পরিবার আর দলের লোকজন। এতিমের তো কোনা ভাগ্যে পরিবর্তন হয়নি। তাদেরকে বঞ্চিত করেছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই কেয়ারটেকার সরকার তন্নতন্ন করে খুঁজেছে, কোনো অনিয়ম পায় কি না, আমাকে কোনোভাবে বাঝাতে পারে কি না। কিন্তু তারা সেখানে পায় নাই। আমি বলেছিলাম, আপনারা ভালোভাবে তদন্ত করে দেখেন।’

‘জনগণের জন্য কাজ করতে আসি, জনগণের সম্পদ কেড়ে নিতে না।’

‘পৈত্রিক সূত্রে যে বাড়ি পেয়েছি, জনগণকে দান করে দিয়েছি। যে অর্থ পেয়েছি, ট্রাস্ট করে এ দেশের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার জন্য বৃত্তি দিচ্ছি।... আমরা তো এতিমের টাকা মেরে খাইনি, আমরা মানুষকে দিয়েছি।’

সরকারের বয়স্ক, বিধবা, অন্তঃসত্ত্বা দরিদ্র নারীর ভাতা চালুর বিষয়টি ‍উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভাতা পায়।... দুই কোটি তিন লক্ষ শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে বৃত্তি দিচ্ছি।’

‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়, কল্যাণ হয়। আর বিএনপির কী করে সেটা বিচার করে দেখেন। কেউ যদি এতিমের টাকার লোভ সামলাতে না পারে, তো তারা দেশের মানুষটাকে দেবেটা কী?’

খালেদা জিয়া পরিবারের অঢেল সম্পদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের ছিল টা কী? ৮১ সালে যখন জিয়া মারা গেল তখন বলল, জিয়া পরিবারের কিছু নাই। আছে ভাঙা সুটকেস আর ছেড়া গেঞ্জি। আজকে তারা শত শত কোটি টাকার মালিক কীভাবে জানি না। আজকে বিদেশও টাকা পাচার করে।’

‘কত কিছু তারা করেছে, কোকো ওয়ান, কোকো টু থেকে কোকো ছয় পর্যন্ত লঞ্চ, ড্যান্ডি ডায়িং ইন্ডাস্ট্রি থেকে কত কিছু করেছে। ব্যাংকের থেকে নয়শ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা ফেরত পর্যন্ত দেয় নাই।’

(ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/টিএ/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত