খালেদাকে ভোট থেকে দূরে রাখতেই অপকৌশল: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:৪৩

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন সাজা দিয়ে বন্দী করে একটা হীন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা কারসাজি করতে একের পর নাটকীয়তা করে যাচ্ছে সরকার।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে যত অপকৌশলই সরকার করুক না কেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াকে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না।’

বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনে রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘সংঘাতপ্রবণ রাজনীতি সৃষ্টি করে দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে চায় বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার। সেই কারণের অন্যায়ভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন সাজা দিয়ে বন্দী করে একটা হীন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা কারসাজি করতে একের পর নাটকীয়তা করে যাচ্ছে সরকার। তবে তাদের কোনো কারসাজি ধোপে টিকবে না। ষড়যন্ত্রের রাজনীতিকে পদাঘাত করে জনগণ তাদের বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেই ইনশাআল্লাহ। ব্যাপক গণঅভুত্থানের একটা জোরালো হাওয়া দেশে বইতে শুরু করেছে। এই হাওয়াতেই অবৈধ ক্ষমতার সিংহাসন ভুতলে শায়িত হবে।’

রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াবিহীন নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না এবং দেশের জনগণ তা মেনেও নেবে না। সরকার যে নীলনকশা এঁটে তাকে রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করেছে এতে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে মাইনাস করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এটা জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তথা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে রুদ্ধ করা যাবে না।’

ইতোমধ্যে খালেদা জিয়াকে বন্দী করার পর দেশবাসী যেভাবে জেগে উঠেছে এমন দাবি করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘সব বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে অসংখ্য মানুষ রাজপথে নেমে গেছে। সারা দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে। এতেই সরকারের ভীত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। তাই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে মন্ত্রীরা যতই আবোল-তাবোল বকুক না কেন খালেদা জিয়াবিহীন নির্বাচনের নীলনকশা প্রতিরোধ করতে জনগণ এখন বদ্ধপরিকর।’

রিজভী বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হবে ভেবেই মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা প্রদান করা হয়েছে। প্রহসনের সাজানো মামলা বন্দী করা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে।’

গণতন্ত্রশূন্যতার কারণেই ক্ষমতার ভারসাম্য বলে কিছু নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘একজনের ক্ষমতাই সর্বব্যাপী। আইন, বিচার, আদালত সর্বত্রই শেখ হাসিনার ছায়াশাসনের আওতাভুক্ত। আওয়ামী সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে দমন করার জন্যই অকাতরে মামলার মধ্যে জড়িয়ে এখন সাজা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘যারা বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকে তাদেরকে অবলম্বন করতে হয় অনাচারের ওপর। এই অনাচারে একদিকে যেমন চলছে জবরদখল, খুনের ভয়, রক্তপাত, চাঁদা আদায়ের দাপট ও বেঘোরে জীবনহানির নিরাপত্তাহীনতার মাধ্যমে নাগরিকদের প্রাণ ওষ্ঠাগত করা, আর অন্যদিকে অনাচারের একটি কুৎসিত দিক হচ্ছে-প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্য দিয়ে দেশকে আদিম কালের ঘন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়া।’

মন্ত্রী ও সচিবকে বাঁচাতে নকলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী অবস্থান নিয়েছেন দাবি করে রিজভী বলেন, ‘পরীক্ষার দুই ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং শিক্ষামন্ত্রীর সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতি করার পরামর্শ, একথাগুলো যেন আওয়ামী লীগের সরকার পরিচালনার ইশতেহার। মন্ত্রী ও সচিবকে বাঁচাতে নকলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী অবস্থান নিয়েছেন। যেমন শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশ্রয় দিতে সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে। এটি জাতির ভবিষ্যতের জন্য এক অশুভ বার্তাবহ।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে উঠেছে। গত দুই দিনেও জীববিজ্ঞানসহ কয়েকটি সাবজেক্টে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা সেটিই প্রমাণ করে। পৈশাচিক অনাচারের ধারাবাহিকতায় গুম-খুনের হিড়িকে প্রধানমন্ত্রী জনগণের রক্ত-মাংস-হাড় ও শিক্ষা ধ্বংসের বিনিময়ে গড়তে চাচ্ছেন এক অলৌকিক ক্ষমতার দেউল।’

এসময় তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক হাজী নাজিম, ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতা আবু নোমানসহ পাঁচজন, ওয়ারী থানা বিএনপির ৩৮নং ওয়ার্ড-এর সহ-সভাপতি নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি আটককৃত সব নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন।

(ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত