উৎসব আর মিছিলের নগরী রাজশাহী

তানিম আহমেদ ও রিমন রহমান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:৫৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে ঘিরে মিছিল আর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল রাজশাহী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষের স্রোত ছুটে চলছিল রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের দিকে। মূল মাঠ মানুষে মানুষে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেকে অবস্থান করছিলেন মাদ্রাসা মাঠের আশপাশের এলাকায়।

জনসভা মঞ্চ থেকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের জন্য মাদ্রাসা মাঠের আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছিল মাইক। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক মানুষ মাদ্রাসা মাঠে ঢুকতে না পেরে মাইকের পাশে রাস্তায় বসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনছিলেন।

তাদের একজন জেলার পবা উপজেলার পুঠিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আশকান আলী। সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মাথায় ছোট একটা কাঠের নৌকা আর জাতীয় পতাকা বেঁধে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে শেষ পর্যন্ত আশকান মূল মাঠে ঢুকতে পারেননি। আশকান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে না পেরে তার খারাপ লাগছে। কিন্তু এতো কাছ থেকে তার কথা শুনতে পেয়েও তার ভালো লাগছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই জনসভা উপলক্ষে সকাল থেকেই জনসমুদ্রে রূপ নেয় মাদ্রাসা ময়দান। রাজশাহী ছাড়াও নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট এবং আশপাশের জেলা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা হাজির হন এ জনসভায়।

একেকটি দলের একেক রকমের রঙের টি-শার্ট আর টুপির রঙে রঙিন হয়ে ওঠে মাদ্রাসা মাঠ। তাদের টি-শার্টে ছাপানো থাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। রোদের তাপ আর হাজার হাজার মানুষের গরম উপেক্ষা করে তারা দুপুরের আগে থেকেই মাদ্রাসা মাঠে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর।

এর আগে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা এগিয়ে যান মাঠের দিকে। জনসভার মাঠ থেকে অনেকখানি দূরেই গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে যান তারা। মিছিলের ভেতর নেচে-গেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে রাজশাহীতে স্বাগত জানান অনেকেই। তাদের মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

আশকান আলীর মতো দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় নেতাকর্মীদের কেউ কেউ মাথায় দেন কৃষকের মাথাল। নাটোরের সিংড়া উপজেলা শ্রমিক লীগের নেতা মনিরুল ইসলাম শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি নসিমনকে টিন দিয়ে নৌকা বানিয়ে তা চালিয়ে আনেন রাজশাহীতে। লাল-সবুজ রঙের সড়কে চলা ওই নৌকায় শোভা পায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ছবি।

জনসভার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ব্যাপক সাজসজ্জা করা হয়। মাদ্রাসা ময়দানে থাকা গাছের ডালগুলোতে ঝুলিয়ে রাখা হয় ককশিট দিয়ে তৈরি নৌকা। তাতে লিখে দেওয়া হয়, ‘নৌকায় ভোট দিন’। জনসভার মঞ্চটিকেও সাজানো হয় নৌকার আদলে। মঞ্চের বামপাশে থাকা একটি ভবনের ছাদেও তুলে রাখা হয় বেশকিছু নৌকা।

প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নগরীজুড়ে প্রচুর তোরণ নির্মাণ করা হয়। তার ওপরেও শোভা পায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতা, সংসদ সদস্য, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর এবং আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এসব দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, নৌকা এখন শুধু আওয়ামী লীগের প্রতীক নয়, এটি এখন সমগ্র মানুষের প্রতীক, শান্তির প্রতীক। তাই নৌকা দিয়েই জনসভার পুরো মাঠটি সাজানো হয়েছিল। জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে রাজশাহী অঞ্চলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। এর ফল আগামী নির্বাচনে পড়বে বলে তারা আশা করছেন।

(ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/টিএ/আরআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত