রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৫৪ | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৫৪

এ-দোকান ও -দোকান ঘুরছে হাতি। পিঠে বসা তার মনিব মাহুত। দোকানের সামনে গিয়েই শুঁড় তুলে সালামের ভঙ্গি দেখাচ্ছে। তারপর সোজা শুঁড় এগিয়ে দিচ্ছে দোকানদারদের কাছে। শুঁড়ে টাকা গুজার আগ পর্যন্ত দোকানের সামনে থেকে সরছে না হাতিটি। অবশেষে উপায়ন্তর না দেখে দোকানদাররা তুলে দিচ্ছেন ১০, ২০, ৫০ টাকা করে।

এভাবে শুধু দোকান নয়, সড়ক মহাসড়কে চলন্ত গাড়ি থামিয়েও টাকা আদায় করছে হাতি। বুধবার ও বৃহস্পতিবার শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় এ চিত্র দেখা গেল।

বন্যপ্রাণী হাতি বিশালাকার দেহের একটি প্রাণী। তবে পোষ মানানোর পর তার পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে মাহুতের হাতে। অতীতে এসব পোষা হাতি দিয়ে বিভিন্ন সার্কাসে নৈপুণ্য প্রদর্শন করা হলেও এখন অনেকেই হাতি দিয়ে চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাই এসব হাতির অত্যাচারে সময় অসময়ে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ লোকজন।

বৃহস্পতিবার বিকাল চারটা, শ্রীপুর-মাওনা সড়কে মাহুতের বিশেষ নির্দেশনায় হাতি গাড়ি থামাচ্ছিলেন। এসময় এই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সড়ক গাড়ি থামিয়ে ২০ টাকা দিলেন অটো চালক রমজান আলী তিনি জানান, বিশালাকার হাতির ভয়ে আমি টাকা দিয়ে দিয়েছি। টাকা না দিলে যদি অটোতে ধাক্কা দেয়।

এই সড়কের পার্শ্বের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহিদ মিয়া জানান, তার দোকান থেকে হাতিকে ৫০ টাকা দিতে হয়েছে। টাকার জন্য প্রায় দশ মিনিট হাতিটি দাঁড়িয়ে ছিল।

হাতিটির পিঠে বসা মাহুত রবিউল জানান, তার মালিকের চারটি হাতি রয়েছে।  আগে তারা বিভিন্ন সার্কাসে হাতি ব্যবহার করলেও এখন আর সার্কাসের ব্যবস্থা নেই। গত এক সপ্তাহ আগে তার মালিক ট্রাক যোগে তাদের এখানে নামিয়ে গেছেন। হাতির খাবারের যোগানের জন্যই তাদের সড়কে নামতে হয়েছে। দিন শেষে চার পাঁচ হাজার টাকা আয় হয় যা হাতির পেছনে খরচ হয়ে যায়। তবে তার দাবি তিনি কাউকে জোর করেন না টাকার জন্য।

মাওনা চৌরাস্তার ব্যবসায়ী শামসুজ্জামান মামুন জানান, বিশালাকার প্রাণী দিয়ে জনবহুল এলাকায় টাকা উঠানোয় এলাকায় এক প্রকার আতঙ্ক তৈরি হয়। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগের বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) এ এস এম জহির উদ্দিন আকন ঢাকাটাইমসকে বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী বন্যপ্রাণী দিয়ে অর্থ আদায় করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কেউ যদি এসব কাজ করে থাকে তাহলে স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, হাইওয়েতেও হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। হাতি দিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করছে এমন খবর পেলে হাতিটি আটক করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত