কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ বন্ধে উদ্যোগী পুলিশ

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:৫৪ | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:৪১
ফাইল ছবি

১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগে পরীক্ষা শুরু হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি, চলবে ১২ মার্চ পর্যন্ত। জেলার পুলিশ সুপারদের মাধ্যমে এই নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে প্রতি বছর। আর এই ঘুষ বন্ধ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
এরই মধ্যে এলাকায় এলাকায় পোস্টার, ফেস্টুন ও ফেসবুকে প্রচারের মাধ্যমে অনৈতিক লেনদেন বা ঘুষ না দিতে জনসাধারণকে জানানো শুরু হয়েছে।  

ঢাকা জেলা পুলিশের ফেইসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, আগামী ৪ মার্চ পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে লোক নিয়োগ করা হবে। সেখানে ১০০ টাকার ফর্মে আবেদনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এসব প্রচারে বলা হচ্ছে, ‘আপনার আশেপাশে, পরিচিত, অপরিচিত কেউ যদি আশ্বাস দেয় যে টাকার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে তবে আপনি জেনে রাখুন আপনি প্রতারিত হতে যাচ্ছেন। সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে প্রতারক চক্রকে ধরিয়ে দিতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।’

অভিযোগ আছে, একজন কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভেদে সাত থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়ে থাকে। আর যারা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ পায়, তাদের প্রবণতাই থাকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় টাকা অর্জন করে তা তুলে নেয়া।

তবে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারি নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে আছেন। তিনি বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। পুলিশের কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য যেন আর্থিক লেনদেনে জড়িত না হন এ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ’

এবার নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ‘পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা’ টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের সদস্যরা জেলায় জেলায় নিয়োগ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনে জড়িত হলে প্রমাণ পেলে নিয়োগ বাতিল করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

গত তিন বছর ধরেই পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা টিম ছিল। এই টিমে ইতিপূর্বে একজন কর্মকর্তা ছিলেন। এবার সেখানে দুজন করে থাকবেন।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেছেন, ‘কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আমরা সকলেই বদ্ধপরিকর। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য সারাজীবন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে দায়িত্ব পালন করবে। এ কারণে আমরা সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।’

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া করতেই আমরা সব সময়েই বদ্ধপরিকর। এ কারণেই এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে।  

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ১০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পুলিশ সদর দপ্তর। এর মধ্যে সাড়ে আট হাজার পুরুষ ও দেড় হাজার নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল।

১৬ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ৬৪ জেলার এসপিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার কথা জানিয়ে বার্তা পাঠানো হয়।

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতি বছর ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে। বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা পুলিশ সুপারদের কাছে তালিকা ধরিয়ে দেন। এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেন। এ কারণে চলতি বছর পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ-প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয়ভাবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পরিচালনা করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভিন্ন মত দেন। এ নিয়ে টানাপড়েনের পর আগের পদ্ধতিতেই নিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (এইচআর) আবদুল আলিম মাহমুদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগের নিয়মেই নিয়োগ হবে। ৬৪ জেলার এসপিরাই এটা দেখবেন।’

‘তবে আপনি যদি আমাদের নিয়োগের বিজ্ঞাপনটা দেখে থাকেন, আমরা নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছি। আশা করি এতে অভিযোগ আ উঠবে না।’

ঢাকাটাইমস/২২ ফেব্রুয়ারি/এএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রশাসন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত