ডায়েট-ব্যায়াম ছাড়াই দিনে ১ কেজি ওজন কমান

ওবায়দুর রহমান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:১৩ | প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:১০

শহুরে জীবনে বসে কাজ করা কিংবা দৈহিক কম পরিশ্রমের কারণে আজকাল অনেকে ভুগছেন বাড়তি ওজন কিংবা স্থুলতা সমস্যায়। শরীরের বাড়তি ওজন ও মেদ ঝেড়ে ফেলতে অনেকে নিয়ন্ত্রণ আনছেন খাবার-দাবারে। করছেন ব্যায়াম। আবার অনেকে ছোটাছুটি করছেন চিকিৎসকদের পেছনে। এসব করেও যখন কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না, তখন শরীর নিয়ে শুরু হয়েছে আপনার চিন্তা।

অথচ আপনি নিজের বাড়তি ওজন কিংবা স্থুলতা ঝেড়ে ফেলতে পারেন স্বাভাবিকভাবেই। ডায়েট, ব্যায়াম, ব্যয়বহুল বা বেদনাদায়ক অস্ত্রোপচার ছাড়াই দিনে এক কেজি ওজন কমাতে পারেন কেবল ফল মিশ্রণ ক্যাপসুল খাওয়ার মতো এক সরল পথে।

গার্সিনিয়া ক্যামবোজিয়া

গার্সিনিয়া ক্যামবোজিয়া দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গলে জন্মানো একটি ফল যা দেখতে অনেকটা কুমড়ার মতো। তবে এটি আকারে কুমড়ার চেয়ে ছোট। এটি ইন্দোনেশিয়ার গ্রীষ্মকালীন দেশীয় মশলা, যা গার্সিনিয়া গুম্মাই গুট্টা, তামারিন্ড ও ব্রিনডেলবাড়ি নামে পরিচিত। এটা অনেকে কাঁচা অথবা মসলা হিসেবে খেয়ে থাকেন।

এ ফল থেকে একটি সহায়ক খাবার (পথ্য) বা ক্যাপসুল তৈরি করেছেন দিল্লির বিখ্যাত বায়ো-মেডিসিন চিকিৎসক সিদ্ধার্থ কুমাইল। নাম নিউট্রালাইফ গার্সিনিয়া। এই পথ্য খেয়ে বাড়তি ওজন কমিয়েছেন হলিউড ও বলিউডের নামী তারকারা। সাড়া ফেলেছে সারা দুনিয়ায়।

এ নিয়ে নানা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিশ্বের সুপরিচিত মেডিকেল সাময়িকীগুলো। তবে এ চিকিৎসকের ওজন কমানোর বিস্ময়কর সমাধানকে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল দিল্লির মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এআইআইএমএস এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো। বিপরীতে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস তাদের প্রকাশনায় লিখেছে, এটি খেয়ে মাত্র তিন সপ্তাহে ৯০ ভাগ অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে এনেছে রোগীরা। আর নিউ ক্যাসেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রয় টেইলরি একে বলেছেন সবচেয়ে কম সময়ে সর্বোচ্চ ওজন কমানোর এক কার্যকর ফর্মুলা।

কীভাবে মেদ কমায়

গার্সিনিয়া ক্যামবোজিয়া প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এর সঙ্গে আরও উপাদান মিলিয়ে জাদু ফল মিশ্রণ ‘নিউট্রালাইফ গার্সিনিয়া’। এটি শরীরে বিপাক বৃদ্ধি করে, শরীরের টক্সিনগুলো শরীর থেকে বের করে দেয়। শক্তি দশ গুণ বৃদ্ধি করে এবং আক্ষরিক অর্থে জমে থাকা চর্বি রাতজুড়ে কমিয়ে আনে।

এই মিশ্রণটি শরীরে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরভাবে ক্যালোরি ক্ষয়ে সহায়তা করে। শরীরে ক্ষতিকারক উপাদানের বিষক্রিয়াজনিত কারণে মাথাব্যথা থেকে পরিত্রাণ দেয়। শরীরে চর্বি গলে যায়। এটি কেবল শরীরের ওজন কমায় না বিপাক প্রক্রিয়ারও উন্নতি ঘটায় যা শরীরের ফিনটেস বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীরে চর্বি সঞ্চয়ের বিপরীতে  পুষ্টির পরিমাণ সঠিক মাত্রায় নিশ্চিত করে।

এর মাধ্যমে শরীরে সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে আপনাকে পাতলা হতে বা থাকতে স্থায়ীভাবে সহায়তা করে।

কীভাবে খাবেন

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে একটি করে ক্যাপসুল খেতে হবে আপনাকে। আর এতেই কমবে আপনার ওজন। এটির কার্যকারিতা প্রমাণে রোহান কাপুর নামে এক ব্যক্তির ওপর গবেষণা চালানো হয়। তিনি ১০ বছর ধরে মাত্রাতিরিক্ত ওজন নিয়ে ভুগছেন। প্রথমে তার কাছে এটি অনেকটা স্বপ্নের মতো মনে হলো। এ নিয়ে তার দুশ্চিন্তাও কম ছিল না। পরে তিনি নিউট্রালাইফ গার্সিনিয়া বেছে নেন। কারণ সম্পূরক খাবার নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ক্যালিফোর্নিয়ার জিএনপির ল্যাবে ক্লিনিক্যালি এটি পরীক্ষিত ও অনুমোদিত। রোহান বলেন, এ থেকে ফল পেতে তাকে মাত্র ২ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছে।

বিজ্ঞানিক ভিত্তি

বিশ্বের বিজ্ঞানীরা গার্সিনিয়া ক্যামবোজিয়া ও ইন্ট্রোডিউসিং হাইড্রোঅক্সাইটিক এসিড নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন যে গার্সিনিয়া ক্যামবোজিয়া দুটি শক্তিশালী উপায়ে শরীরে ওজন কমায়।

ক. শরীরে মেদ বা চর্বি কমিয়ে

মানুষের শরীরে সাইট্রেট লায়াস নামের একটি এনজাইম থাকে যা মানুষের খাবারকে চর্বিতে রূপান্তর করে। গার্সিয়া ক্যামবোজিয়ার ইন্ট্রোডিউসিং হাইড্রোঅক্সাইট্রিক এসিড (এইচসিএ) এ এনজাইমকে প্রতিরোধের মাধ্যমে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না। শরীরে চর্বি জমার চেয়ে একে অনেকটা জ্বালানির মতো পুড়িয়ে ফেলে।    

খ. ক্ষুধা দমিয়ে রাখে

গবেষকরা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন লেভেল বাড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ইন্ট্রোডিউসিং হাইড্রোঅক্সাইট্রিক এসিড (এইচসিএ) অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকা পেয়েছেন। সেরোটোনিন মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে, যা আপনাকে ভালো অনুভব করতে সাহায্য করে। সেরোটোনিন লেভেল বাড়ানোর মাধ্যমে এইচসিএ শারীরিক অনুভূতিতে উন্নতি ঘটায় এবং উত্তেজনাকর মুহূর্তে ক্ষুধার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। (হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে)

(ঢাকাটাইমস/২৩ফেব্রুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত