পরিচয়পত্র দেখিয়েও রক্ষা পাননি সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৫৪ | প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:২২

নয়াপল্টনে বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি কভার করতে গিয়ে পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের নিজস্ব প্রতিবেদক কিরণ সেখ। মারধরকারী পুলিশ সদস্য পল্টন থানার একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। একটি সূত্রে জানা গেছে তার নাম কুবায়েত।

শনিবার সকালের দিকে বিএনপির কর্মসূচি শুরুর দিকে পুলিশ বিএনপি কর্মীদের জলকামান দিয়ে পানি দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টার সময় এই ঘটনা ঘটে।

এসময় পুলিশকে নিজের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও ওই পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করে বলে জানিয়েছেন কিরণ সেখ।

বাংলাদেশ জার্নালের নিজস্ব প্রতিবেদক কিরণ সেখ ঢাকাটাইমসকে বলেন, পূর্বঘোষিত বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে আসা মাত্রই বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এসময় আমার পরিচয় জানতে চাইলে আমি আমার অফিসের আইডি কার্ড দেখাই। এরপরও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে আমাকে কিল ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। শার্ট টেনে মাটি থেকে তুলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

এই সাংবাদিক বলেন, আমাকে কেন মারধর করা হচ্ছে জানতে চাইলে আবারো গালে থাপ্পর মেরে বলে- একদম চুপ, কোনো কথা বলবি না।

পরে অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা এগিয়ে এলে কিরণ সেখকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এই ঘটনার পর নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে কর্তব্যরত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এই ঘটনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা এজন্য দুঃখ প্রকাশ করে ‘সরি’ বলেন।

পরে দুপুরের দিকে মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার আরিফুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখন কোনো কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ মুভমেন্টে যায় সেখানে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে। মুভমেন্ট চলাকালে অপ্রত্যাশিত ঘটনা যতদূর সম্ভব আমরা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। তারপরও কিছু ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু আজকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও যে ঘটনা ঘটেছে এটা অপ্রত্যাশিত। আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে সরি বলছি।’

এদিকে দুপুর দুইটার দিকে নয়াপল্টনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দৈনিক সমকালের রিপোর্টার কামরুল হাসান পুলিশের জেরার মুখে পড়েছেন। পুলিশ বলছে, তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু না।

বিএনপি অফিসের পাশে হোটেল ভিক্টোরির নিচতলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে সমকালের চিফ রিপোর্টারে সঙ্গে কথা বলে পরিচয় নিশ্চিত হয়। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ছুটে গিয়ে কামরুলকে নিয়ে আসেন।

(ঢাকাটাইমস/২৪ফেব্রুয়ারি/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

গণমাধ্যম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত