কেন স্বৈরাচারী বলা হয় জানেন না এরশাদ

প্রকাশ | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:২৭ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জানেন না কেন তাকে স্বৈরাচারী বলা হয়। তিনি স্বৈরাচারী শাসন চালিয়েছেন, এমন প্রমাণ থাকলে তা নিয়ে হাজির হতেও চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে এক যোগদান ও পেশাজীবী সমাজের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সাবেক সেনা শাসক।

এরশাদ বলেন, ‘আমি এমন কী করেছি যে আমাকে স্বৈরাচার বলা হয়?...আমি কখনোই স্বৈরাচার ছিলাম না, কেউ যদি আমাকে স্বৈরাচার বলে দাবি করে তাহলে প্রমাণ হাজির করুক।’

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি হওয়া জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে নিহত হওয়ার পর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে হটিয়ে এরশাদ রাষ্ট্রপতি হন ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ।

সে সময় ক্ষমতায় এসে নির্বাচন দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার করেও কথা রাখেননি এরশাদ। জিয়াউর রহমানের পথ ধরেই গঠন করেন তার নিজের দল জাতীয় পার্টি। আর গণআন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ।

তবে এরশাদের দাবি, তিনি ক্ষমতা নিয়েছিলেন বাধ্য হয়ে। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না, জাস্টিস সাত্তারের (সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার)অনুরোধে দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তিনি তখন দেশ চালাতে অপারগ ছিলেন।’

‘আমি নির্বাচন দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সবাই ভোট বর্জন করল। তখন বাধ্য হয়ে দল গঠন করেছি।’

অনুষ্ঠানে ফাহিম আল ফয়সাল ও জাফর মিয়ার নেতৃত্বে ৫৬ জন পেশাজীবী জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। তাদেরকে দলে স্বাগত জানিয়ে পেশাজীবীদের আহ্বায়ক কমিটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন এরশাদ।

সাবেক সেনা শাসক বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে তার দলের জয় যাত্রা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনে জনগণ বীতশ্রত। এখন জাতীয় পার্টিই তাদের আশা ভরসার স্থল। আর ভবিষ্যত উজ্জ্বল দেখেই এখন দলে দলে মানুষ যোগ দিচ্ছে দলে। 

এরশাদের দাবি, বর্তমানে মানুষের জীবন শান্তি ও নিরাপত্তা নেই। কিন্তু তার আমলে এমন ছিল না। তিনি যেমন মানুষকে নিরাপত্তা দিয়েছেন, তেমনি উন্নয়নও করেছেন।

বাংলা ভাষার চর্চাতেও তার সরকারের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন এরশাদ। বলেন, ‘কেউ সর্বস্তরে বাংলা চালু করেনি, আমি চালু করেছি। এর জন্য ১৯৮৭ সালে সংসদে আইন পাস করেছি।...আমিই প্রথম সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা চালু করি, আমিই অগ্রদূত।’

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের,  মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সভপতিমণ্ডলীর সদস্য সুনীল শুভরায়, খালেদ আখতার প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

ঢাকাটাইমস/২৪ফেব্রুয়ারি/এএকে/ডব্লিউবি