ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ শুরু ডিসেম্বরে

ভোলা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:৩৪

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে দ্বীপ জেলা ভোলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শুরু হবে। ইতোমধ্যে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা।

শনিবার সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনওয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ব্রিজের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে ভোলায় আসেন। দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের উপস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের সাথে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ভোলা-বরিশাল ব্রিজের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের একটি জরিপ রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়। রিপোর্টে তিনটি স্থান দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হলে ভেদুরিয়া-লাহারহাট পয়েন্টেটিতে ব্রিজ নির্মাণের জন্য মতামত দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

গত বছর ভারতের স্টুপ, ইংল্যান্ডের কাউই এবং বাংলাদেশের ডিডিসি ও দেবকন কনসালটেন্ট নামের এই চারটি কোম্পানির যৌথ একটি পরামর্শক গ্রুপ ভোলা-বরিশাল ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। প্রায় এক বছর সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে তারা ব্রিজ নির্মাণের জন্য তিনটি স্থান নির্ধারণ করেন।

ভেদুরিয়া ফেরিঘাট থেকে লাহারহাট ফেরিঘাট এই সাইটটিতে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে লাহারহাট সংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদীতে ৫০০ মিটার, কালাবদর নদীতে ৩হাজার ৪০০ মিটার এবং ভোলা সংলগ্ন তেতুলিয়া নদীতে ১হাজার ২০০ মিটার এবং মাঝখানের চরে ৩ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে।

সভায় কনসালটেন্ট গ্রুপের টিম লিডার নির্মালা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা যাচাইয়ের সময় ভোলার সাথে বরিশালের সংযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছি। তাতে দেখা গেছে এ সংযোগ তিনটি জায়গা দিয়ে হতে পারে। একটি হলো ভোলার ভেদুরিয়া থেকে লাহারহাট, অপরটি হলো ধুলিয়া থেকে ভেলুমিয়া লঞ্চঘাট, অপরটি হলো টুমচর থেকে গাজীরচর। এই ব্রিজটি নির্মাণের সাথে প্রয়োজনীয় রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণসহ সব কিছু যাচাই করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

আর সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার জানান, ভেদুরিয়া থেকে লাহারহাট এ স্থানটিতে আমদের ধারণার চেয়েও তুলনামূলক কম খরচে ব্রিজ নির্মাণ সম্ভব। ইতোমধ্যে চায়নার সাথে দুটি বড় বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে অর্থায়ন করবে এক্সিম ব্যাংক। তাই যত দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হবে, তত দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে। 

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, লাহারহাট থেকে ভেদুরিয়া স্থানটি নিশ্চিত  বাস্তব সম্মত। এ জায়গা দিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে খরচও কম হবে। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ভোলার গ্যাস বরিশালে যাবে। ভোলায় অনেক কল

কারখানা স্থাপিত হবে। ব্রিজ দিয়েই অল্প সময়ে ঢাকাসহ সাড়া দেশে পণ্য পরিবহন করা যাবে। ভোলা-বরিশাল ব্রিজ ও পদ্মা ব্রিজের কাজ শেষ হলে ভোলার মানুষ ৫ ঘণ্টায় ঢাকায় যেতে পারবে। এমন এক সময় আসবে যখন ভোলার টাকা দিয়ে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ব্রিজটিও নির্মাণ সম্ভব হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৪ ফেব্রুয়ারি/প্রতিনিধি/ওআর)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত