বেরোবিতে ভর্তি জালিয়াতি, ধরার বাইরে মূলচক্র

ইভান চৌধুরী, বেরোবি
 | প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:৫৬

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০১৭-১৮ইং শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় এখনও কোনও অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার এক মাস পরেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে আলোচিত সেই ‘আন্টি’সহ মূলচক্র। এদিকে তদন্ত কমিটি এখনও পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বেরোবির প্রশাসনিক মহলে।

বেরোবি সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ১ম বর্ষের ভর্তি সাক্ষাতকারে জালিয়াতির অভিযোগে ৬ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে লালমনিরহাট জেলার মিশনমোড় এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে শাহরিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদে ভর্তি জালিয়াতি সংক্রান্ত বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

তার তথ্যমতে পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নগরীর খামার মোড় এলাকার কথিত এক আন্টি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর নাম। এর ধারাবহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারোল কর্মচারী রায়হান চৌধুরী পিন্টুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। তবে ধরাছোয়ার বাইরে থাকেন সেলিমা বেগম (৫০) নামের সেই কথিত ‘আন্টি’।

পিন্টুকে গ্রেফতারের পর কোতোয়ালী থানার উপ পরিদর্শক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মহিব্বুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ভর্তি পরিক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় পিন্টুর জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। ভর্তি জালিয়াতির সাথে জড়িত সেই আন্টির সাথে পিন্টুর যোগসাজশ ছিল। পিন্টু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নাম ভাঙ্গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অনেক কিছু স্বীকার করেছে।

পরবর্তীতে এঘটনায় জড়িত আরও আরও তিন ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এঘটনায় সর্বমোট ১০ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলেও এখন পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ‘আন্টি’ খ্যাত সেলিমা বেগম।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বেরোবিতে ভর্তি জালিয়াতিতে মোট পাঁচটি চক্র জড়িত। এর মধ্যে দুইটি চক্রের চার জালিয়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিন চক্রের অন্যান্য জালিয়াতদের তারা শনাক্ত করেছে। এরপর এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও অন্য কোন জালিয়াতকে আটক করা হয়নি। তবে জালিয়াতদের ধরতে পুলিশি অভিযান অভ্যাহত আছে বলে জানান কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহিব্বুল ইসলাম।

এদিকে জালিয়াতির ঘটানায় গত ২৮ ডিসেম্বর তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই কমিটিকে অতি শ্রীঘ্রই প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি এই কমিটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যানুসন্ধান কমিটির সদস্য সচিব শামসুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে বলেন, কমিটি কাজ করছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা রিপোর্ট জমা দিতে পারবো।

তবে কবে নাগাত তদন্ত কার্যক্রম শেষ হবে সে বিষয়ে তিনি পরিস্কার করে কিছু বলতে পারেননি।

ঢাকাটাইমস/২৫ফেব্রুয়ারি/প্রতিনিধি/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষা এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর