আহত মিনুর বাসায় লিটন

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
| আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:২৪ | প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:২০

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও মিজানুর রহমান মিনু। দুজনেরই বসবাসও একই শহরে। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগ আর মিজানুর রহমান মিনু বিএনপি নেতা। দুইজন দুই রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ায় তাদের দেখা কিংবা কথা হয় না বললেই চলে। এবার সেই রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে মিনুর বাসায়  হাজির হলেন লিটন। আর তাদের এ সৌজন্য সাক্ষাৎকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নগরবাসী।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু শুক্রবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। তার কপালের ওপরের অংশে সেলাই পড়েছে তিনটি। সেদিন থেকে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়িতে বিশ্রামে আছেন তিনি। তাকে দেখতে বাড়িতে  প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

শনিবার রাতে মিনুর বাসায় হাজির হন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এসময় তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হুদা রানা ও উপপ্রচার সম্পাদক মীর ইসতিয়াক আহমেদ লিমনও উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে খায়রুজ্জামান লিটন মিনুর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তাদের সাক্ষাতের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে। একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন নগরবাসী। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছবিগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করেন।

ছবির মন্তব্যে কবি রুহুল আমিন প্রামানিক নামে একজন লিখেছেন, সৌজন্য, সুন্দর আচরণ। পান্না আহমেদ নামে আর একজন লিখেছেন, এ জন্যই রাজশাহী আজ শান্তির শহর। ফটোসাংবাদিক মামুন রেজা লিখেছেন, রাজশাহীর মানুষ এমনটাই চায়, ধন্যবাদ লিটন ভাই। সাবিত নিবিড় নামে আরেকজন লিখেছেন, এটাকে রাজনীতি বলে না, এটাকে বলে ভালোবাসা।

জানতে চাইলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনও বললেন এমন কথা। বলেন, এটা নতুন কিছু না। অসুস্থ্য হলে এর আগেও আমি তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি। তিনিও এসেছেন। একই শহরের মানুষ, সাবেক মেয়র হিসেবে তাকে আমি দেখতে যেতেই পারি। এটা সামাজিক সৌজন্যতা।

আর মিজানুর রহমান মিনু বলেন, খায়রুজ্জামান লিটন তার খোঁজ নেয়ায় তার ভীষণ ভালো লেগেছে। বাসায় অনেকটা সময় নানা বিষয়ে তাদের আলাপ হয়েছে। অসুস্থ্যতার কারণে তিনি কয়েকটা দিন বাসায় কাটাবেন। মাথার সেলাইগুলো কাটা হলে আবার অংশ নেবেন দলীয় কর্মসূচিতে।

মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু ১৯৯১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর রাজশাহী সিটি করপোরেশন মেয়র ছিলেন। হয়েছিলেন সংসদ সদস্যও। জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ছেলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র ছিলেন ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত।

(ঢাকাটাইমস/২৫ ফেব্রুয়ারি/আরআর/ওআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত