মিরপুর বস্তিতে আগুন: ‘ঘুমে’ সিটি করপোরেশন

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৮, ২১:৫৭ | প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৮, ১৬:৩০

মিরপুর ১২ নম্বরে বস্তিতে আগুনে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে গেলেও সোমবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কেউ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার রজ্জব হোসেন বস্তিটি ঘুরে দেখলেও কোনো সহায়তা করতে পারেননি।

রবিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে মিরপুর ১২ এর হারুনাবাদ এলাকার কবির মোল্লার বস্তি, সাত্তার মোল্লার বস্তি ও নাগর আলীর বস্তিতে আগুন লাগে। প্রায় তিন হাজার ঘর পোড়ার পর আগুন থামে।

বস্তিটি সিটি করপোরেশনের ৬ নং ওয়ার্ডে পড়েছে। আগুনের ঘটনায় বস্তির কয়েক হাজার মানুষ এবং স্থানীয়দের ঘুম ভেঙেছে ভোর হওয়ার আগেই। তবে ঘুম ভাঙেনি নগর কর্তৃপক্ষের। তারা কোনো সহায়তা দিয়ে পাঠায়নি, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার কোনো উদ্যোগও নেয়া হয়নি দুপুর অবধি।

সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছিল পরিবেশ। কোথায় আশ্রয় হবে, খাওয়া দাওয়া কীভাবে হবে এ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা তখন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা তার নির্মাণাধীন মোল্লা মার্কেটে তাদের আপাতত থাকার ব্যবস্থা করেছেন। সেই সঙ্গে রান্নার আয়োজনও করেছেন তিনি।

ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার অফিসেই দেখা হলো স্থানীয় ৬ নং ওয়ার্ড কমিশনার রজ্জব হোসেনের সঙ্গে। সিটি করপোরেশন কী করবে?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে বিষয়টি আমি জানিয়েছি। তিনি বলছেন দেখতে আসবেন।’

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কী করা হয়েছে-জানতে চাইলে রজ্জব হোসেন বলেন, ‘এখনও কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। আমাদের নির্দেশনা দেয়া হলেই আমরা করব। এখন শুধু এমপি সাহেবের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

এত বড় আগুন এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পরও নগর কর্তৃপক্ষের এই কালবিলম্বে হতাশ ও ক্ষুব্ধ বস্তিবাসী। যেসব ঘর পুড়েছে, সেগুলো থেকে খুব কম পরিমাণ জিনিসপত্র বের করতে পেরেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

এর আগে ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর গুলশানের কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার পর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেই বস্তিবাসীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের পাশাপাশি প্রয়াত সিটি মেয়র আনিসুল হক তখন ছুটে যান ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে। তাৎক্ষণিকভাবে খাবারের পাশাপাশি পরে পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেয়া হয় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে। বেশ কিছু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও সে সময় তাৎক্ষণিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল।

এদিকে ঘটনাস্থলে এসে ঢাকা জেলার এডিসি শহীদুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। আর আর্থিক সহায়তার বিষয়টি পরে পরে জানানো হবে।

ঢাকাটাইমস/১২মার্চ/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত