‘বিপজ্জনক’ বিমান দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা

এম গোলাম মোস্তফা, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৮, ১০:২৪ | প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৮, ০৮:২৩

নেপালের কাঠমান্ডুতে যে ফ্লাইটে ইউ এস বাংলা যাত্রী পরিবহন করত সেটির নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আপত্তি পুরনো। আর ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিভিন্ন দেশে এই মডেলের বিমান নিষিদ্ধ।

দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটির মডেল বম্বারডিয়ার ড্যাশ এইট কিউ ফোর জিরো জিরো। কানাডার প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা দুই ইঞ্জিনের উড়োজাহাজটি অবতরণের ক্ষেত্রে প্রায়ই ভুল হয় বলে এক জরিপে জানা গেছে।

সোমবার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭১ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন বিমানবন্দরে অবতরণ করতে গিয়েই ছিটকে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এর মধ্যে অন্তত ৫০ যাত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ।

এই বিমানের যাত্রীদের মধ্যে ৩২ জন ছিলেন বাংলাদেশি। এদের মধ্যে ১৪ জন বেঁচে আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় ফ্লাইটের দুই পাইলটকে দায়ী করেছে, তবে ইউএস বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ দায়ী করেছেন নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কট্রোল টাওয়ারের (এটিসি) থেকে তাদের পাইলটকে ভুল সংকেত দেয়া হয়েছে। ফলে কোথায় অবতরণ করতে হবে, সেটি তারা বুঝতে পারেননি। আর বিমানের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না।

বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, সেই বিষয়টি তদন্তের পর জানা যাবেন। তবে বিমান চলাচল বিষয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা গেছে, যে মডেলের ফ্লাইটটি কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হয়েছে, সেই মডেলের ফ্লাইট অবতরণের ক্ষেত্রে প্রায়ই ঝামেলায় পড়ে।

বম্বারডিয়ার ড্যাশ এইট কিউ ফোর জিরো জিরো মডেলের দুই ইঞ্জিনের এই উড়োজাহাজের যাত্রী বহন ক্ষমতা ৭০ থেকে ৭৮ জন।  কানাডার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দো হ্যাভেনেট কানাডার ১৯৮৩ সালে তৈরি এই মডেলের উড়োজাহাজ ১৯৮৪ সালে প্রথম উড্ডয়ন করে।  ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কিনে নেয় বম্বারডিয়ার এয়ার স্পেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৪২টি এই ধরনের উড়োজাহাজ তৈরি হয়েছে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে দুর্ঘটনায় পড়েছে, যার প্রায় সবই ঘটেছে অবতরণের সময়।

এ ধরনের উড়োজাহাজের প্রতি ১০০টি অবতরণের প্রায় অর্ধেকই সেইফ ল্যান্ডিংয়ের সব শর্ত পূরণ করে না। এর জন্য ত্রুটিপূর্ণ ল্যান্ডি গিয়ারকে দায়ী করেছেন আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।

১৯৯০ সালের ২১ নভেম্বর ব্যাংকক এয়ারওয়েজের একটি ‍উড়োজাহাজ অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। ১৯৯৩ সালের ৬ জানুয়ারি জার্মানির লুফথানতা সিটি লাইনের বিমান অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়।

পরপর তিনটি উড়োজাহাজ অবতরণকালীন দুর্ঘটনায় পড়ার পর ২০০৭ সাল এই মডেলের বিমান নিজেদের বহরে নিষিদ্ধ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স।

২০০৯ সালে এই মডেলের একটি বিমান অবতরণের সময় নিউ ইয়র্কে একটি বাসায় বিধ্বস্ত হয়।

এই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিমানের বহরেও এখন এই মডেলের উড়োজাহাজ আছে দুটি। দেশের প্রতিটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সও এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে।

৫০০ মাইল বা এর চেয়ে কম দূরত্বে চলার উপযোগী এই উড়োজাহাজ। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন দেশের ছোট বিমান সংস্থার কাছে এই মডেলের উড়োজাহাজ বেশ জনপ্রিয়।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, খরচ কম পড়ে বলে বেসরকারি বিমান পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো সাধারণত পুরনো বিমান্ই ভাড়া করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই উন্নত দেশে বাতিলের খাতায় রাখা ফ্লাইটগুলোই ভাড়া আনা হয়।

ইউএস বাংলার যে ফ্লাইটটি দুর্ঘটনায় পড়েছে, সেটি কবে ভাড়া আনা হয়েছে, সে বিষয়ে ইউএসবাংলা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কিছুই জানায়নি।

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এ বিষয়ে ইউএস বাংলার কোনো গাফিলতির প্রমাণ পেলে বা তারা নিরাপত্তায় ত্রুটি থাকা কোনো ফ্লাইট ব্যবহার করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাংলাদেশে বিমান পরিচালনাকারী বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রশ্নবিদ্ধ বিমান ভাড়া নিয়ে আসার প্রবণতার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত জেনে তারা উদ্যোগ নেবেন।

ঢাকাটাইমস/১৩মার্চ/জিএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত