ত্রিভূবনের রানওয়ে যেন মূর্তিমান আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৭:১৭ | প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৩:২৩

কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে পাইলটদের জন্য যেন মূর্তমান আতঙ্ক। বিশ্বের বিপদজনক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে এটি একটি। তবুও বিপদজনক এ বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে বিশ্বের বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স কোম্পানি।

হিমালয়ের বিভিন্ন পর্বত শ্রেণী ও প্রকৃতিক সৌন্দর্যের উপভোগের জন্য অসংখ্য লোক নেপাল ভ্রমণে যায়। তাই ব্যবসায় লাভের জন্য বিপদজনক হলেও এয়ারলাইন্সগুলো এখানে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

এই বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা অন্যসব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চেয়ে বেশি জটিল। বিমানবন্দরটির রানওয়ে ও ব্যবস্থাপনা তেমন শক্তিশালী নয়। এ বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য পাইলটদের নিতে হয় বিশেষ প্রশিক্ষণও। ত্রিভূবনের রানওয়ের দুই পাশে রয়েছে খাঁড়া পাহাড়। এছাড়া বিমানবন্দর থেকে নয় কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে একটি বিশাল উচ্চতার পাহাড়। এ কারণে ত্রিভূবন একটি জটিল বিমানবন্দর।

ত্রিভূবনে ফ্লাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে এমন চারজন পাইলট এ ব্যাপারে বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বিমান এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ক্যাপ্টেন এস এম নাসিমুল হক ত্রিভূবন নিয়ে বলেন, ‘এখন সুপার শপগুলোতে বৈদ্যুতিক মেশিনে মাংস কাটা হয়। একটু এদিক–সেদিক হলে যিনি কাটছেন, তার হাত কেটে যেতে পারে। আবার ২–এর সঙ্গে ২ যোগ করে ৪ হয়। এখানেও হিসাব করতে হয়। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরও ঠিক তেমনি। এখানে হিসাবে ভুল হলেই বিপত্তি। আমরা ফকার মডেলের উড়োজাহাজ চালিয়েও সেখানে চলাচল করেছি। কিন্তু অনেক অত্যাধুনিক উড়োজাহাজও দুর্ঘটনায় পড়ছে।'

ত্রিভুবনে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইনসের এমন কয়েকজন পাইলট নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। চারপাশের উঁচু পাহাড়-পর্বতে ঘেরা। এখানে উড়োজাহাজ অবতরণ করাতে যেমন সতর্ক থাকতে হয়, তেমনি ওঠানোর সময় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হয়।’

পাইলটরা বলেন, ‘ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর থেকে এক ঘণ্টা সময় লাগে কাঠমান্ডুর আকাশসীমায় যেতে। বোয়িং কিংবা এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো ৩২ হাজার ফুট থেকে ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে সেখানে উড়ে যায়। তবে ত্রিভূবনে অবতরণের সময় প্রধান বাধা একটি বিশাল পাহাড়, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৭০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। ত্রিভুবন বিমানবন্দরের নয় মাইল দূরে রয়েছে এই পাহাড়। এ জন্য এই রানওয়েতে কোনো উড়োজাহাজই সোজা অবতরণ করতে পারে না। ওই পাহাড় পেরোনোর পরপরই দ্রুত উড়োজাহাজ অবতরণ করাতে হয়’।

এছাড়াও এ বিমানবন্দরে আরেকটি বড় সমস্যা এখানে অটোমেটিক ল্যান্ডিং ব্যবস্থা নেই। এ ব্যবস্থায় রানওয়ে থেকে ৫০ ফুট দূরত্বে থাকলেও যেকোনো বিমানকে নির্দেশনা দেয়া যায়।

শাহজালাল বিমানবন্দরে সাধারণত অবতরণের জন্য যে কাজটি পাইলটরা ৮০০ মিটার দূর থেকে করতে পারেন সেই একই কাজ ত্রিভূবনে ৩০০০ মিটার দূর থেকে করতে হয়। যেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এছাড়া বিমান উড্ডয়নের সময়ও পাইলটদেরকে বিমান ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সাড়ে ১১হাজার ফুট উচ্চতায় নিয়ে যেতে হয়। তারপর বিভিন্ন জায়গায় থাকা ২৫ হাজার ফুট উচ্চতার অসংখ্য পাহাড় এড়িয়ে এগিয়ে যেতে হয়।

এ বিমানবন্দরের দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলছে, বিমানবন্দরটিতে আন্তর্জাতিক বিমান অবতরণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি বিমান ও হেলিকপ্টারের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ত্রিভূবন হচ্ছে নেপালের একমাত্র ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এটির রানওয়ে খুব জটিল এবং এর ব্যবস্থাপনা অপর্যাপ্ত ও দুর্বল।

ঢাকাটাইমস/১৩মার্চ/একে/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত