'যাত্রীরা জ্বলছিল আর ভয়ঙ্করভাবে চিৎকার করছিল’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৩:৪১ | প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৩:৩১

নেপালের ত্রিভূবনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের শোকে মূহ্যমান গোটা দেশ। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে সে প্রার্থনা সকলেরই। স্মরণকালে এটিই কোনো বাংলাদেশি বিমানের ভয়ংকর দুর্ঘটনা।

ভয়াবহ এ বিমান দুর্ঘটনার সময় ত্রিভূবনে অবতরণ করতে যাওয়া ইউএস বাংলার বিমানটির যাত্রীদের অবস্থা আসলে কেমন ছিল? তার বর্ণনা দিয়েছেন দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শাহরিন আহমেদ নামের এক যাত্রী।

বিমান দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ টিচিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯ বছর বয়সী শাহরিন। সে সময়ের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বন্ধুর সঙ্গে ভ্রমণে এসেছিলাম। উড়োজাহাজটি অবতরণের সময় হঠাৎ করে কাঁপতে থাকে। সে সময় লোকজন প্রচণ্ড চিৎকার শুরু করে। আমরা (যাত্রীরা) পিছনে তাকিয়ে দেখি বিমানে আগুন লেগে গিয়েছে’।

সহযাত্রী বন্ধু তাকে দ্রুত সামনে দৌঁড়াতে বলে জানিয়ে শাহরিন বলেন, ‘যখন (আমরা) দৌঁড় দিলাম তখনই আমার বন্ধুর শরীরে আগুন লেগে যায়। এসময় সঙ্গে সঙ্গে নিচে পড়ে যায়’।

কথা বলতে গিয়ে কান্নারত শাহরিন আরো জানান, লোকজন আগুনে জ্বলছিলো আর চিৎকার করছিলো এবং নিচে পড়ে যাচ্ছিলো। সে সময় তিনজন লোক লাফ দিয়ে আগুন লাগা বিমান থেকে বেরিয়ে যায়। এটা ছিলো অত্যন্ত  ভয়ানক। ভাগ্যক্রমে কেউ একজন আমাকে ধাক্কা দিয়ে নিরাপদে নিয়ে আনেন।

শাহরিন কাঠমুন্ডু এবং পোখরা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নেপাল যান। দুর্ঘটনায় তার ডান পায়ের অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তার পিঠের শতকরা ১৮ ভাগ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. নাজির খান।

আরেক বাংলাদেশি মেহেদি হাসান প্রথমবারের মত বিমানে ভ্রমণ করছিলেন। স্ত্রী, চাচাতো ভাই এবং তার মেয়ে তার সঙ্গী ছিলেন। মেহেদি বলেন, ‘আমার সিট ছিলো পেছনের দিকে। যখন আমি দেখলাম বিমানে আগুন লেগে গেছে তখন আমি আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের দিকে তাকাই। আমরা জানালা ভাঙ্গার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছিলো না’।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের উদ্ধার করার জন্য কাউকে খুঁজছিলাম। এ অবস্থায় আমি ও আমার স্ত্রী কোনোভাবে বের হয়ে আসি। কিন্তু আমার চাচাতো ভাই এবং তার মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি’।

শাহরিন এবং মেহেদিসহ উদ্ধার হওয়া ১২ জনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া গুরুতর আহত হওয়ায় বাকিদের নেয়া হয়েছে গ্রান্ড আন্তর্জাইতক হাসপাতাল, নেউরু হাসপাতাল এবং নেপাল মেডেসিটি হাসপাতালে। কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা এসব হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সূত্র: দি হিমালয়ান টাইমস

ঢাকাটাইমস/১৩মার্চ/একে/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত