একরাম হত্যা: বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরী নির্দোষ

ফেনী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৮, ২২:৫৮ | প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৮, ২০:৫৬

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায় নির্দোষ প্রমাণ হয়েছেন এই মামলায় আসামি মাহতাব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী মিনার। তিনি ছাড়াও আরও ১৫ জনও নির্দোষ প্রমাণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে যারা বন্দী তাদেরকে মুক্তি দেয়ার আদেশ দেয়ার পর গ্রেপ্তার থাকা ১৪ জনের মধ্যে মিনার চৌধুরীসহ ১২ জন মুক্তি পেয়েছেন।

এই মামলায় জড়ানোর পর থেকেই মিনার চৌধুরী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলে আসছিলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। মিনারের পাশাপাশি খালাস পেয়েছেন আলোচিত যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম  মিস্টারও। তিনি মিনার চৌধুরীর মতোই আদালত থেকেই মুক্তি পান।

মুক্তি পাওয়া অন্য ১০ জন হলেন, কাজী শানান মাহমুদ, সাইদুল করিম পাপন, জাহিদ হোসেন ভূঞা, বেলায়েত হোসেন পাটোয়ারি, মো. মাসুদ, আবদুর রহমানর, ইকবাল, কাদের, কালামিয়া ও রিপন।

এই মামলায় খালাস পেলে অন্য মামলা থাকায় ফারুক হোসেন ও আলমগীর ওরফে আলাউদ্দিন মুক্তি পাননি। খালাস পাওয়া অন্য দুই জন ইউনুছ ভূঞা শামীম ও সফিকুল জামিল পিয়াস আগে থেকেই পলাতক।

মিনার চৌধুরী ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে একরামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তিনি ফেনী জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক।

২০১৪ সালের ২০ মে একরামকে ফেনী শহরে প্রকাশ্যে গুলি করে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে হত্যার পর তার ভাই রেজাউল হক জসিম মিনার চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে ফেনী মডেল থানায় ৫৬ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা ও তৎকালী ফেনী গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ  সবার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলা হওয়ার পর ওই বছর ২৭ মে গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা থেকে মিনারকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় পুলিশ মিনারকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে। মাঝে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে পরে তিনি আবার কারাগারে যান।

পাসপোর্ট জমা রাখার শর্তে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর মিনার চৌধুরীকে ছয় মাসের জামিন দেয় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ। পরে ৩০ অক্টোবর চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সে আদেশ স্থগিত করে নিয়মিত বেঞ্চে আপিল করার নির্দেশ দেন।

মিনার চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে হত্যার জন্য দুই কোটি টাকা দিয়েছেন। তবে বিএনপি এবং মিনার শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন, এই হত্যাকা-টি ঘটেছে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

মামলার রায়ের পর মিনার চৌধুরীর আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘এ রায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে। আমরা আগেই বলেছিলাম, তাকে (মিনার) এই মামলায় জড়ানোর কোনো যুক্তি ছিল না।’

দেশ কাঁপানোর এই হত্যার ঘটনায় আদালত মোট ৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে। তারা সবই আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৭ জন পলাতক।

ঢাকাটাইমস/১৩মার্চ/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত