প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে একরাম হত্যা: আদালত

আরিফ আজম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৮, ২২:৫৭ | প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৮, ২২:৫৪

ফেনীতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ফুলগাজীর উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামকে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ফেনীতে এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং অপরাধীরা অপরাধ করার সাহস পাবে না বলেও আশা করছেন বিচারক।

চট্টগ্রাম বিভাগের ছোট্ট জেলা ফেনী বারবার আলোচনায় এসেছে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে। দীর্ঘ দিন ধরেই নানা ঘটনা বারবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে এসেছে এই জেলায়। তবে ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী সদরের একাডেমি এলাকার অধুনালুপ্ত বিলাসী সিনেমা হলের সামনে উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে হত্যার দৃশ্য ধরা পড়েছিল ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়। আর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শিউরে উঠেছিল গোটা দেশবাসী।

শুরু থেকেই জানা যায়, ফেনী আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এই খুন করানো হয়। আর সরকারও মামলাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসামিরা যেই দলেরই হোক না কেন বিচার হবে।

একরামের ভাই রেজাউল হক জসিম বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন, তারপরও বাকি ৫৫ আসামির সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত যে ৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়, তারাও আওয়ামী লীগেরই নেতা-কর্মী।  

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহম্মদ বলেন, ‘এ রায় ঐতিহাসিক, নজিরবিহীন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করতে কেউ সাহস করবে না বলে আদালত মনে করেছে।’

রায় ঘোষণার সময় জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক বলেন, ‘আদেল সাহেব (ফেনী আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল) সহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতিহিংসা, প্রভাব বিস্তার, ক্ষমতা ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ হত্যাকা- ঘটেছে।’

রায় ঘোষণার দিনও এক ধরনের ভয়ের আবহ ছিল আদালত এলাকায়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসামিকের হাজির করা হলেও আদালতে বাদীর স্বজনদের কাউকে দেখা যায়নি। রায় ঘোষণার আগে আদালতের পক্ষ থেকে বাদীসহ স্বজনদের ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

মামলার বাদী একরামের বড়ভাই রেজাউল হক জসিমের ঘনিষ্ঠ একজন জানান, মামলার শুরু থেকেই তিনি আদালতে যাননি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তারা অনুপস্থিত থাকেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণেও উল্লেখ করা হয়, স্বাক্ষী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতে আসেনি। মামলায় ৫৬ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৪৯ জন আদালতে হাজির হয়ে স্বাক্ষ্য দিলেও অনেকে প্রাণভয়ে সত্য কথা বলেননি।

এই মামলায় যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ১৬ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এর বাইরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে জানিয়ে ৩৯ আসামিকে মৃত্যুদ- ও ১৬ জনকে খালাস দেয়া হয় বলে বিচারক উল্লেখ করেন।

এই মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি একরামকে হত্যার জন্য দুই কোটি টাকা দিয়েছেন। তবে সে অভিযোগ আদালতে প্রমাণ হয়নি।

ঢাকাটাইমস/১৩মার্চ/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত