নাচ থামাবে না, আমি দেখব, তোমরা নাচো: পাপন

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কলম্বো, শ্রীলঙ্কা থেকে
| আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৮, ০০:০৫ | প্রকাশিত : ১৭ মার্চ ২০১৮, ১৭:১৮

দলকে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি এখন শ্রীলঙ্কায়। টুর্নামেন্টের আগেই এসেছেন এখানে। মাঝে দুই দিনের জন্য গিয়েছিলেন ঢাকায়। দেশের মাটিতে শোচনীয় ব্যর্থ হবার পর নিদাহাস ট্রফি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে দলের জন্য। বিসিবি প্রেসিডেন্ট হয়তো এ কারণেই দলকে সঙ্গ দিতে টানা কলম্বোতে। গতকালের ঘটনাবহুল ম্যাচাটাও দেখেছেন মাঠে বসে। আজ বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন গতকালের ম্যাচের নানা বিষয় নিয়ে। সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-

ফাইনাল জিতলে আরো বোনাস

দল জিতলে দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কথা বলা যায় না। আজ ওদের সঙ্গে বসব। সেই সঙ্গে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে লড়াই করে, দেশের বাইরের মাঠে ফাইনালে উঠে আসা আমাদের জন্য বিরাট ব্যাপার। কালকের ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের জন্য একটা বোনাস ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এটাও বলা হয়েছে, সিরিজ এখন শেষ হয়নি। আসল খেলাটাই আগামীকাল, ওখানে যেন ঠিকভাবে খেলতে পারি তাহলে বোনাস আরও বাড়বে। খেলোয়াড়দের এক কোটি টাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

নো বল প্রসঙ্গে

প্রথম একটা বল বাউন্সার ছিল। পরের বাউন্সারটা আসার পর নো বল দেওয়ার কথা। রিয়াদ সঙ্গে সঙ্গে লেগ আম্পায়ারকে জিজ্ঞেস করল, এটা নো বল কি না। সে বলল যে এটা ফ্রি হিট হবে। রিয়াদকে তিনিই বলেছেন, এটা ফ্রি হিট হবে। স্বাভাবিকভাবে রিয়াদ যখন ওভাবে গেছে তখন আবার মূল আম্পায়ার যিনি উনি আবার দিচ্ছেন না! রিয়াদের মুখ থেকে যেটা শুনেছি, তখন মেইন আম্পায়ার নাকি বলেছেন প্রথম যে বাউন্সার দিয়েছেন সেটি ওয়ার্নিং দেননি। সে জন্য ওটা কাউন্ট করেননি। রিয়াদ বলেছে, ওয়ার্নিং দেন নাই, এখন তো নো বল বলা হয়েছে। এটা ফ্রি হিট দেন। তখন আম্পায়াররা বলেছেন, সেটি দেওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু আগেরটা হয়নি। এটা আম্পায়ারদের মধ্যে যোগাযোগের বিভ্রাট ছিল। এটা নিয়ে পরিস্থিতিটা তৈরি হয়েছে।

যেটা হয়েছে, সেটা ঠিক হয়নি

প্রেসিডেন্ট বক্সে কোনো উত্তেজনা ছিল, তা নয়। প্রথম কথা হচ্ছে, আমি আরেক জায়গায় বসে খেলা দেখছিলাম। বুঝতেই পারছেন ওখানে স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কানরা ছিল। আমরা হাতেগোনা চার–পাঁচজন বাংলাদেশি। আমি আগেও যেখানে বসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দেখেছিলাম, কালও সেখানে বসেছিলাম। তবে আমরা অবশ্য চাচ্ছিলাম না, এ ধরনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে মোটেও খেলা বন্ধ করে চলে আসা ক্রীড়া চেতনার সঙ্গে যায় না। যেটা হয়েছে, বুঝতে পেরেছি সেটা ঠিক হয়নি। ক্রিকেট খেলাটা এমনই, মেনে নিতে হয়। আমরা চেয়েছি খেলাটা যেন হয়। একটা বিশ্বাস ছিল ম্যাচটা জিতব। মনে একটা আশা ছিল, জিততে পারব, যেহেতু রিয়াদ ক্রিজে ছিল।’

আমি বললাম, নাচ থামাবে না

ওরা ভীষণ খুশি ছিল। আমি যখন ওদের ওখানটায় যাই, দেখলাম সবাই নাচছে। গান করছে। আমাকে দেখে আবার থেমে যাচ্ছিল। আমি বললাম এই থামবা না, আমি দেখব না, তোমরা নাচো! পরে আবার বলেছে এটা ভিডিও করে আমাকে পাঠাবে। ওরা অনেক উপভোগ করেছে।

ড্রেসিংরুমের দরজা ভাঙা প্রসঙ্গে

এটা আমি শুনেছি, দেখেছি। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আমাদের বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সিইও নিজাম উদ্দিন সকালে আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। আমি যখন রাতে ড্রেসিংরুমে যাই, অনেক কাচ দেখলাম সেখানটায়। পরিস্থিতি এমন ছিল, কী হয়েছে না হয়েছে, কে করেছে, বিস্তারিত জানি না। আমরা এটা অবশ্যই জানার চেষ্টা করব। আমাদের কোনো খেলোয়াড় হয়তো করেছে। বাংলাদেশ যে মানে এসেছে, তাদের কাছে এটা প্রত্যাশিত নয়।

এসএলসির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে কি না?

মনে হয় না এমন কিছু খেলা শেষ হওয়ার পর সকলেই ওরা অভিনন্দন জানিয়েছে। ওদের বোর্ড প্রেসিডেন্টও অভিনন্দন জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা শক্ত। মনে হয় না এ ধরনের ঘটনার জন্য সম্পর্কে চিড় ধরতে পারে।

সাকিব জানিয়েছে, আপনার ফোনের পর সে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

সাকিবের সঙ্গে কথা হয়েছিল... শুনেছিলাম ভারতীয় হাইকমিশনে সে পাসপোর্ট জমা দিয়েছিল। শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই মনে হলো, সামনে যেহেতু আইপিএল আছে। সেখানে যাবে সে খেলতে। তখন ফোন করে জানতে চাইলাম, হাতের অবস্থা কী? সে বলল, ভালো। ভালো যখন ঢাকায় বসে আছ কেন? এখানে আসো। ও বললো, ১৬ তারিখে এসে ১৭ তারিখে খেলব। ওর ধারণা ছিল ম্যাচ ১৭ তারিখে। বললাম, ১৭ তারিখে এসে তো লাভ নেই। ১৬ তারিখে হারলে ফাইনালে যেতে পারব না। কাল সকালের ফ্লাইটে চলে আস। সে রাজি হলো, চলে এল। প্রথম কথা হচ্ছে, আঙুলে কোনো ব্যথা অনুভব করছে না, সমস্যা নেই সে কারণেই মনে হয়েছে চলে আসা উচিত। একটাই দ্বিধা ছিল, যেহেতু অনুশীলন করতে পারেনি পর্যাপ্ত। এমন একটা টুর্নামেন্টে অনুশীলন ছাড়াই নামবে কি না। 

(ঢাকাটাইমস/১৭ মার্চ/ডিএইচ)

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত