৪৩ বছর কেটে গেল গাঙে

সালাহউদ্দিন সোহাগ
 | প্রকাশিত : ১৭ মার্চ ২০১৮, ১৯:৫০

গাঙে (নদী) কেটে গেল ৪৩ বছর। এ এক অন্য রকম টান। ১৯৭৬ সালে শখের বসে যে পথ চলা শুরু করছিলে তা এখনো চলমান। ইচ্ছা আছে আরো এক বছর এই চাকরি করার। মাত্র ৬৫ টাকা বেতনে শুরু করে এখন পান ১২০০০ টাকা। অন্য চাকরির সুযোগ পেলেও ছাড়েননি পছন্দের পেশা। পশুর নদী দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই মাস্টারের নাম মো. জয়নাল। এখন পর্যন্ত যিনি কাজ করেছেন ২০ এর অধিক লঞ্চে।

মামাতো ভাইয়ের হাত ধরে ৩০ টাকা নিয়ে ১৯৭৬ সালে বাড়ি ছাড়েন জয়নাল। ৫ টাকা দিয়ে এক জোড়া লুঙ্গি ও ২ টাকা দিয়ে স্যান্ডেল কিনে চলে যান খুলনা। শুরুতে এমভি সাপিনাই বাংলা নামে এক লঞ্চে কাজ শুরু করেন।

খুলনা-আশাশুনি রুট দিয়ে লঞ্চ চালানো শুরু করে ১২ বছর কাটিয়েছেন খুলনার বিভিন্ন রুটে।এরপর ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত কাজ করেছেন ঢাকা-ঝালকাঠি, হুলার হাট, ভান্ডারিয়া, ল্যাটরা, ভোলাসহ বিভিন্ন রুটে।

পারাবাত-৪ দিয়ে দোতলা লঞ্চে যাত্রা শুরু। এছাড়াও কাজ করেছেন তরিকা-৭, পারাবত-০, পারাবত- ২, জল কোমদ- ২, সাগর-৮, জামাল-৩, জাহিদ-৪ ও রাশেদ-৪ এ। ২০১৫ সাল থেকে আছেন এমভি অন্তরা লঞ্চে। যা বর্তমানে চলাচল করছে ভোলা-বরিশাল রুটে।

পারিবারিক জীবনে ২ মেয়ে ও ২ ছেলের জনক জয়নাল। দুই মেয়েই মাস্টার্স পাস করেছেন। একজন চাকরি করছেন কলেজে। আর অন্যজন প্রাইমারি স্কুলে। ছেলেরা এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। একজন আছেন গাড়ির ব্যবসায়। আর অন্যজন টেক্সটাইল মিলে চাকরি করছেন।

এসব জয়নালদের হাত ধরেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। যাদের হাতেই নিরাপদে ফিরে যাই আমরা। উত্তাল নদীতে যারা শক্ত হাতে হাল ধরে আমাদের তীরে নিয়ে আসেন। এরাই হলেন আমাদের সত্যিকারের পাঞ্জেরি।

লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফেসবুক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত