উই স্লিপ-ইট-ড্রিংক ম্যাজিক: মুমতাজ সরকার

অনলাইন ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৮, ১২:৫২

সম্প্রতি ‘মায়া দ্য লস্ট মাদার’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান অভিনেত্রী মুমতাজ সরকার। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ কিংবা ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ দিয়ে পরিচিতি পেলেও তামিল ও হিন্দি সিনেমায় অভিনয় দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন মুমতাজ। শুধু কি অভিনয়, বক্সার কিংবা নৃত্যশিল্পী হিসেবেও তিনি কম জান না। সত্যিকার অর্থেই সব্যসাচী তিনি। উপমহাদেশের প্রখ্যাত জাদুশিল্পী পিসি সরকার ও পিসি সরকার জুনিয়রের উত্তরসূরি। গুণী এই অভিনেত্রীর মুখোমুখি হয়েছিল ঢাকাটাইমস। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈয়দ ঋয়াদ।

মায়া-দ্য লস্ট মাদারয়ে আপনিমানবী বোস এই চরিত্র সম্পর্কে বলুন।

এখানে আমার চরিত্র ড. মানবী বোস। সে একজন যুদ্ধশিশু। কিন্তু এই পরিচয়টা সে আগে জানত না। সে কলকাতায় বড় হয়েছে। কিন্তু যেদিন তার মা মারা গেল সে এই বিষয়টা আবিষ্কার করল, যে পরিচয়ে সে বড় হয়েছে সেটা তার আসল পরিচয় নয়। সে আসলে মানবী বোস নয়, তার আরও একটা পরিচয় রয়েছে, যেটা সে জানত না। সে এতদিন যেটা বিশ্বাস করে এসেছে সেটা মিথ্যা। সব মিথ্যা। সে আসলে অন্য একটা দেশ থেকে এসেছে। কেন এসেছে সেটারও একটা ইতিহাস আছে। মাসুদ পথিকের অসাধারণ গল্পের একটি সিনেমা।

অভিনয়ের আগে বক্সিং শিখেছেন, বিষয়ে জানতে চাই।

প্রফেশনালি আমি একজন অ্যাক্টর। যেহেতু আমি এই কাজটা প্রফেশনালি করি। কিন্তু আমার অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করার বিষয়টা ওভাবেই শুরু। মানে বক্সিং দিয়ে। বক্সিং কি করে একজন অভিনয়শিল্পী বানায়? সেটা আবার একটা প্রশ্ন হতে পারে। অথচ আমার বেলায় তাই হয়েছে। আমি বক্সিং করি এরকম একটা নিউজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টা অনেকটা এমন ‘পিসি সরকারের মেয়ে বক্সিং করে।’ এই বিষয়টা এখনো রয়েছে।

বাংলাদেশের এক শিল্পীর গানের মিউজিক ভিডিও দিয়ে আপনার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, আবারও বাংলাদেশে। কেমন লাগছে।

আমি এ ব্যাপারে ভীষণ ভাগ্যবান। সেটাই বলছি, আমি তখন সবে মাধ্যমিক দেব। মেহেরীন আপুর মিউজিক ভিডিও ‘তারা মিউজিক’। আমাকে ডাকা হলো সেখানে বক্সার মেয়ের ক্যারেক্টার প্লে করার জন্য। আমিও ভাবলাম, ভালোই তো পকেট মানি পাওয়া যাবে। আবার বক্সার হিসেবে! কাজটা ছাড়া যায়! বরাবরই ক্যামেরার সামনে আমাদের শাই বা লাজুক বিষয়টা ছিল না। সেখান থেকেই কিন্তু শুরু। ওই মিউজিক ভিডিওটা কলকাতায় বেশ ফেমাস হয়। গানটাও বেশ ভালো ছিল।

অভিনয়শিল্পী হিসেবে পরিচিতি তো তখন থেকেই...

তখনই বিভিন্ন পরিচালকের কাছ থেকে প্রচুর ফোনকল আসতে থাকে। তখন একটা পরিচয় তৈরি হয়, যেটা আগে ছিল এভাবে- আমি পিসি সরকারের মেয়ে। এই পরিচয়টার পাশাপাশি আমার নিজেরও একটা পরিচিতি হলো। যেহেতু আমি অভিনয় করছি সেটাও অনেকে জানছে। কিন্তু পরিবার থেকে সেই সময়ে অভিনয়ের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হলো। মিনিমাম লেভেল অব এডুকেশন শেষ না করা অবধি অর্থাৎ গ্র্যাজুয়েশন না করা পর্যন্ত অন্য কিছু করা যাবে না। ইলেভেন-টুয়েলেভে পড়ার সময়ও এত কাজের অফার আসছিল যে, শুধু না না করতে হয়েছে।

০৩৩আপনার প্রথম ফিল্ম। পরিকল্পনা করেই কী অভিনয়ে এসেছেন?

আমার অভিনয়ের বিষয়টা একেবারেই ইন বর্ন। অভিনয়ের জন্য আমি কখনো প্রফেশনালি ট্রেইনিং বা কিছু নেইনি কিন্তু। আমার শেখাটা প্রাকটিক্যালি। আমি নিজের কাজ করতে করতে অনেক কিছু শিখেছি। আমার দাদু পিসি সরকার বা আমার বাবা পিসি সরকার জুনিয়র মঞ্চে যেটা দেখাচ্ছেন সেটা তো জাদু দেখাচ্ছেন না। তারা জাদুকরের অভিনয় করছেন (হা হা হা)।

সবাই যাকে গুণী অভিনেত্রী হিসেবে চেনে তিনি আবার একজন বক্সারও।

আমি ছোটবেলা থেকেই অ্যাথলেটিক করছি। ইটস ডিফারেন্ট থিংক ফর ওমেন। কারণ মহিলারা বক্সিং করে এটা সচরাচর দেখা যায় না। তাই লোকদের এই বিষয়ে এক্সাইটমেন্ট বেশি। আমি টেনিস খেলি, ব্যাডমিন্টন খেলি, রোয়িং করি। সো স্পোর্টস ইস অলওয়েজ বিন পার্ট অফ মি। ওয়াইএমসি তে শর্টফুটে গোল্ড মেডেলও পেয়েছি।

বক্সিং শুরু করার কারণটা কি?

এটা শুরুর কারণটা আসলেই ডিফারেন্ট। ছোটবেলা থেকে পুরুষদের ওপর আমার একটা রাগ আছে, আর সে রাগটা হলো বলা হয় যে, ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে স্টংগার বেটার। আর এটাও বলা হয়, ছেলেরা সব কিছু পারে, মেয়েরা সব পারে না। এখান থেকেই আমার রাগ, কেন ছেলেরা সব কিছু পারে? আজকে টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরিতে দাঁড়িয়ে একটা ছেলে বা মেয়ে কিছু পারে না এটা তার কমতি। মেয়েরা এখন কিন্তু সবই করছে। বাইরের কাজও করছে, সংসারও করছে। তারপরও ছেলেরা সব পারে, আমার শুধু ওটাতেই রাগ।

বক্সিংয়ের সঙ্গে এর যোগসূত্র আছে?

আমি যখন ক্লাস এইটে ছিলাম, আমাদের একজন বান্ধবীর জন্মদিন। ক্লাস এইট মানে সবে পাখা বেরিয়েছে এমন একটা ব্যাপার। ভীষণ বড় হয়ে গেছি একদল ডেপু পাকা মেয়ে। ঠিক করেছি আমরা বান্ধবীর জন্মদিনে রেস্টুরেন্টে ডিনার খেতে যাব। যার জন্মদিন সেলিব্রেট করতে যাব তার বাবা বললেন, তোমরা একা যেতে পারবে না ওকে (বান্ধবীর ছোট ভাই) নিয়ে যাও। আংকেল বললেন বিপদে পড়লে ও তোমাদেরকে বাঁচাতে পারবে। আমরা বললাম, আংকেল ও তো অনেক ছোট আমাদেরকে কি করে সেভ করবে? তারপরও ছেলে বলে ওকে নিতে হলো। আমার খুব জেদ হলো। সারা রাত ভেবে পরদিন সকালে বাবাকে বক্সিং শিখবো বলে জানালাম। বাবাও রাজি হলেন। সেভাবেই শুরু। বক্সিংয়ের একটা মজা আছে। প্রথমে সেটা বুঝিনি। পরে বক্সিংয়ের প্রেমে পড়ে যাই। বিশাল ম্যাচ টেচ খেলিনি, তবে যতদূর সম্ভব চর্চাটা করছি। ছোট ছোট ইভেন্টে তো এটেন্ড করেছি।

শুনেছি ক্লাসিক্যাল নাচেও আপনার দখল আছে?

আমার মা একজন নৃত্যশিল্পী। প্রফেশনালি তিনি এটা হয়তো পরিচয় দেন না। একটা কথা বলা হয়ে থাকে ‘ব্লাড স্পিক’। আমারও সেটাই হয়েছে। আমি নাচ পাগল। আমি এতটাই নাচ পাগল যে, আপনি যদি বলেন, মুমতাজ একটু নেচে দেখাও, আমি এখনই হয়তো নেচে দেখাব। খুব ছোটবেলা থেকেই নাচ শিখতে শুরু করি। ওডিসি নাচ দিয়ে। আমার মেঝো দিদি মৌবাণী সরকার সেও ওডিসি ড্যান্সার। ওর একটা স্কুলও আছে। সে বাচ্চাদের শেখায়। পরে অবশ্য আমি ‘ক্লাসিক্যাল জাজ’ ও ‘কত্থক’ করেছি।

ভারতবর্ষের জাদুশিল্পে আপনার দাদা বা বাবা খ্যাতি কুড়িয়েছেন। আপনি কী জাদুর সঙ্গে যুক্ত?

সেভাবে যদি ম্যাজিশিয়ান হিসেবে বলি। সেটা আমরা সবাই করি। আমাদের পারিবারিক প্রোগ্রামে আমরা সবাই পারফর্ম করি। এখন বাবা-মা-বড়দিদি একক পারফর্ম করে। আর ফ্যামিলি প্রোগ্রাম হলে আমরা তিন বোন, বাবা-মা এক সঙ্গে পারফর্ম করি। উই স্লিপ-ইট-ড্রিংক ম্যাজিক। একটা ফুলের তোড়ায় যে মুখ্য ফুল থাকে, ম্যাজিক আমাদের পরিবারে সেই রকম। আমরা যা করি না কেন সবই ওই ফুলটাকে ঘিরেই।

বাংলাদেশে প্রথম ফিল্ম করছেন, কেমন লাগছে?

এখানে কাজ করতে এসে আমার কখনো মনে হয়নি আমি অন্য একটি দেশে এসেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে এখানকার সবকিছুই আমার খুব পরিচিত। সব মিলিয়ে অসাধারণ। আমি তো বারবারই আসতে চাই এখানে।

সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকে এবং ঢাকাটাইমস পরিবারের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত