সংবিধানের ৭০ অনু‌চ্ছেদ নি‌য়ে রিট খা‌রিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩৯ | প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৮, ১৪:২৯

জাতীয় সংসদে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে সদস্যপদ শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

রবিবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। রিটের পক্ষের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ সাংবা‌দিক‌দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কোন যুক্তিতে রিটটি খারিজ হয়েছে?- জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, ‘আদালত বলেছে এটি বাংলাদেশের মূল আইন। এই আইন বাতিল করা যায় না।’

গত ১১ মার্চ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন ঠিক করে দেয় আদালত।

ওই দিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও  ইউনুছ আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিভক্ত আদেশ দেন।

বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না’ এই মর্মে রুল দেন। তবে কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন। পরে প্রধান বিচারপতি রিটটি নিষ্পত্তির জন্য তৃতীয় একক বেঞ্চ গঠন করে দেন।

গত বছর ১৭ এপ্রিল সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ইউনুছ আলী আকন্দ।

রিট আবেদনে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে যা বলা হয়েছে:

কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-

(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা

(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,

তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

মুক্তিযু্দ্ধের পর প্রণয়ন করা বাংলাদেশের সংবিধানেই এই বিধানটি যোগ করা ছিল। এটি যোগ হয়েছিল মূলত ব্রিটিশ আমলে বিরূপ অভিজ্ঞতা থেকে।

১৯৪৫ সালের ২৮ মার্চ অখণ্ড বাংলায় মুসলিম লীগ সরকার পড়ে যায়। এর পেছনে ছিল অতি মুনাফাপ্রবণ মাড়োয়ারিদের কারসাজি। কয়েক লক্ষ টাকা তুলে মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভাকে খতম করার জন্য কয়েকজন এমএলএকে কিনে ফেলে ব্যবসায়ীরা। ফলে এক ভোটে হেরে সরকারের পতন হয়।

সে সময় তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজনকে বেশ কয়েকজন এমএলএদের পাহারা দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে সেই ঘটনার বর্ণনা আছে। আর এই অপচেষ্টা রোধ করতেই সংবিধানে এই বিধান যোগ করা হয়।

ঢাকাটাইমস/১৮মার্চ/এমএবি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত