ঝুলে গেল খালেদার জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৯:৫৪ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৮, ০৯:২৯

এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি ঝুলে গেছে। খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা লিভ টু আপিল গ্রহণ করে আগামী ৮ মে পর্যন্ত খালেদার জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহের ম‌ধ্যে উভয়পক্ষকে মামলার সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছেন আপিল বিভাগ।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

এর আগে গতকাল র‌বিবার খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা লিভ টু আপিলের শুনা‌নি অনু‌ষ্ঠিত হয়। এরপর আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।

খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম খান।

গত ১৬ মার্চ হাইকোর্টে দেয়া খালেদা জিয়ার জামিন রবিবার পর্যন্ত স্থগিত করে আপিল বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল চেয়ে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া তারেক রহমানসহ মামলার অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়।

২০ ফেব্রুয়ারি কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। আপিল আবেদনে বিচারিক আদালতের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৪টি যুক্তি দেখানো হয়। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারিক আদালতের দণ্ড স্থগিত চাওয়া হয়।

২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিচারিক আদালতের দেয়া জরিমানার আদেশও স্থগিত করা হয়। আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য রাখেন আদালত।

এছাড়া মামলাটিতে বিচারিক আদালতের নথি তলব করে ১৫ দিনের মধ্যে তা হাইকোর্টে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষে আদালত বলেছিলেন বিচারিক আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেবেন। ১২ মার্চ শুনানি শেষে খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। চারটি যুক্তিতে খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেয় আদালত। একইসঙ্গে চার মাসের মধ্যে এ মামলার পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

১৪ মার্চ দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের শুনানি নিয়ে আদালত তাদের লিভ টু আপিল দায়ের করতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ১৮ মার্চ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করে ওইদিন লিভ টু আপিলের শুনানির দিন ধার্য করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/এমএবি/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত