টাকা আত্মসাতের জেরে খুন হন সাংবাদিক সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৩:৩৫

‘ইসলামিক নিউজ অনলাইন’ নামে অনলাইন পোর্টালে চাকরি দেয়ার নামে ফয়সাল আহমেদ নামে এক যুবকের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেয়ার পর তা ফেরত না দেয়ায় খুন হন সাংবাদিক সুমন, যিনি ওই পোর্টালটির সাংবাদিক ছিলেন। টাকা না দেয়ায় সুমনকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন।

গত ৯ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ী ৩১ শহীদ ফারুক রোডের একটি বাসা থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কটটেপ পেঁচানো অবস্থায় সুমনের মরদেহ উদ্ধার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।

থানা পুলিশ জানায়, সুমন সিকদার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী গ্রামের রহমান সিকদারের ছেলে ও ইসলামিক নিউজ বিডি নামের একটি অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক ছিলেন।

ওই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল আহমেদ ও জহিরুল ইসলাম জনি নামে দুজনকে রবিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পূর্ব বিভাগের একটি দল। পরে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল বাতেন বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে জানা যায়, সুমন শিদকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সিএনজি গাড়ি থেকে ভূয়া ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করত।’

ফয়সাল নামে ওই যুবককে নিজের পোর্টালে লভ্যাংশসহ চাকরি দেয়া কথা বলে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সুমন। কিন্তু লভ্যাংশ দেয়া তো দূরের কথা চাকরি না পেয়ে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। ফয়সাল পাওনা টাকা দাবি করলে টালবাহানা শুরু করে সুমন। টাকা না পেয়ে সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে ফয়সাল।

পরে ফয়সাল গ্রেপ্তার জনির সঙ্গে যোগসাজশ করে গত ৭ মার্চ সুমনের অফিসে যায়। সেখানে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। সুমন ঘুমিয়ে পড়লে ফয়সাল ও জনি শ্বাসরোধ ও মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। এরপর মরদেহ খাটের নিচে রেখে কম্পিউটার ও মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পরদিন সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় ফয়সাল ও জনিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজই আদালতে পালিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানান ডিবির কর্মকর্তা আবদুল বাতেন।

ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/এএ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত