নেপালে বিমান দুর্ঘটনা

প্রিয়ন্ময়ী আর মাতিয়ে রাখবে না বাড়িটি

ফয়সাল আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর)
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৭:১৯ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৬:৫১

গাজীপুরের শ্রীপুরের জৈনা বাজার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষা দোতলা বাড়িটিতে আজ  সাতদিন ধরে একরকম খা খা পরিবেশ। অথচ কয়েকদিন আগেও এ বাড়িটির প্রাণের অস্তিত্ব ছিল তামাররা প্রিয়ন্ময়ীকে নিয়েই।

আজ রবিবার স্বজনদের ভিড়েও প্রিয়ন্ময়ীর অভাব অনুভূত হচ্ছে। তিন বছর বয়সী এই শিশুটিকেও নিয়েই সাধারণ লোকজনের শোকের আবহ তৈরি হচ্ছে শ্রীপুরে। কিন্তু এই শোক কাটানোর অস্তিত্ব যে এখন আর নেই। কারণ প্রিয়ন্ময়ী তার বাবাকে সহযাত্রী করে আজ  না ফেরার দেশে।

সোমবার নেপালে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সাতদিন পর অনেকের সাথে আজ  শিশুটি ফিরে এসেছে দেশের বুকে। তবে কফিনবন্দি হয়ে।

এই বাড়িটিতে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে গৃহপরিচারিকার কাজ করছেন ছবি বেগম। তার সাথেই প্রিয়ন্ময়ীর অনেক স্মৃতি রয়েছে।

তিনি জানান, প্রিয়ন্ময়ী বিমানে উঠার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছিল, ১২ মার্চ (সোমবার) বিমানে উঠার জন্যই খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেছিল সে। প্রতিদিন গোসলের সময় কান্নাকাটি করলেও সে দিন আর সে কাঁদেনি। তার দাদু ফিরোজা বেগম নিজ হাতে তাকে গোসল করিয়ে প্রস্তুত করে দিয়েছেন। তাকে ঘিরেই বাড়িটিতে প্রাণের অস্তিত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। সে বাবা ও তার দাদু ফিরোজা বেগমের খুব অনুরক্ত ছিল। ভালোবাসার কারণে ফিরোজা বেগমকে দাদুমনি বলে অভিহিত করত প্রিয়ন্ময়ী। মায়ের শাসনের নানধরনের অভিযোগ দাদুর কাছেই করত। দাদু আর নাতনির দুজনের খুঁনসুটিতে বিশাল বাড়িটিও নানা সময়ে ব্যস্ত হয়ে উঠত।

সন্তান আর নাতি হারিয়ে শোকে কাতর এখন ফিরোজা বেগম, তিনি গত কয়েকদিন ধরেই সকল কিছুর বিনিময়ে তার ছেলে ফারুক হোসেন প্রিয়ক ও নাতনি প্রিয়ন্ময়ীকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু স্বজনদের মুখে যে কলপ আঁটা। তারা যে ফিরোজা বেগমকে সান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়েছেন।

ফিরোজা বেগমের ভাই তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত পাঁচ বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার বোনের স্বামী শরাফত আলী মারা যান। এসময় তার বোন খুবই ভেঙে পড়ে। পরে তাদের অন্ধকার ঘর আলোকিত করে আসে এই শিশুটি। বেঁচে থাকার প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পান পরিবারটি। আবার একটি দুর্ঘটনার মধ্যদিয়ে সবই শেষ হয়ে গেল।

তিনি জানান, এই প্রিয়ন্ময়ী প্রতিটা মুহূর্ত বাড়িটি মাতিয়ে রাখত। আমরা যখন আসতাম সে দৌড়ে আসত, শুভেচ্ছা জানিয়ে আমাদের কবিতা শোনাত। চটপটে স্বভাবের এই শিশু কন্যাকে ঘিরেই এক প্রকার শোকার্ত পরিবেশের আবহ বিরাজ করছে।

গত ১২ মার্চ সোমবার নেপালে বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী ফারুক হোসেন প্রিয়ক ও তার শিশু কন্যা প্রিয়ন্ময়ী নিহত হয়।

সোমবার দুপুরে অন্যদের সাথে বাবা ও মেয়ের লাশও দেশে এসেছে।

নিহত প্রিয়কের চাচাত ভাই লুৎফর রহমান, সোমবার মরদেহ দুটি বাড়িতে আনার পর মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শ্রীপুরের আব্দুল আউয়াল ডিগ্রি কলেজ মাঠ ও বেলা ১১টায় জৈনা বাজার এলাকার মাদবর বাড়ি মাঠে দু’দফা জানাজা শেষে প্রিয়ক ও প্রিয়ন্ময়ীর মরদেহ প্রিয়কের নিজ বাড়ির সামনেই দাফন করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :