কুতুব মিনার ছিল ‘বিষ্ণু স্তম্ভ’ দাবি হিন্দু মহাসভার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৭:১০

সম্প্রতি তাজমহলকে শিব মন্দির বলে দাবি করেছিল ভারতের হিন্দু মহাসভা।  সে নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। আর এবার মুঘলদের অন্যতম নিদর্শন কুতুব মিনারকে ‘বিষ্ণু স্তম্ভ’ বলে দাবি করেছে হিন্দু মহাসভা। এই গোঁড়া হিন্দু সংগঠনের আলিগড় শাখার দাবি কুতুব মিনারই আসলে বিষ্ণু স্তম্ভ।

সম্প্রতি হিন্দু নববর্ষ উপলক্ষে একটি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে হিন্দু মহাসভা। সেখানে কুতুব মিনারের ছবি দিয়ে তার নিচে লেখা হয় ‘বিষ্ণু স্তম্ভ’। আর এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে গোটা ভারত জুড়ে।

অবাক করা বিষয় হলো, শুধু কুতুব মিনার নয়, মুঘল আমলের সাতটি মসজিদ ও স্মৃতিস্তম্ভকে হিন্দু মন্দির বলে এই ক্যালেন্ডারে দাবি করেছে সবসময় সমালোচনার মুখে থাকা ভারতীয় এ সংগঠন।

তাদের ক্যালেন্ডারে তাজমহলের পাশে লেখা রয়েছে তেজো মহালয়া মন্দির, মধ্যপ্রদেশের কমল মৌলা মসজিদ আসলে ভোজশালা, কাশির জ্ঞানব্যাপী মসজিদকে বিশ্বনাথ মন্দির, জৌনপুরের আটালা মসজিদকে অটলা দেবি মন্দির এবং অযোধ্যার করসেবদের হাতে ধ্বংস হওয়া বাবরি মসজিদকে বলা হয়েছে রাম জন্মভূমি।

হিন্দু মহাসভার ন্যাশনাল সেক্রেটারি পুজা শাকুন জানান, ‘এই হিন্দু ক্যালেন্ডার প্রকাশ উপলক্ষে আমরা যাগ-যজ্ঞের আয়োজন করি এবং এই দেশকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে শপথ নিই।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি আক্রমণকারীরা হিন্দুদের ধর্মীয় স্থানগুলি ধ্বংস করে মসজিদে পরিণত করেছিল। এখন সেগুলো আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। যেমনটি এই ক্যালেন্ডারে বলা হয়েছে সেরকমই এই মন্দিরগুলোর আসল নাম আমরা ফিরিয়ে দিবো।

এ বিষয়ে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের এক্সিকিউটিভ কিমিটি মেম্বার মৌলানা খালিদ রশিদ ফিরাঙ্গি মাহিলি বলেন, ‘এরা অকারণে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। এদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

আলিগড়ের সাবেক বিধায়ক জামির উল্লাহ খান বলেন, ‘পাকিস্তানে হাফিজ মোহাম্মাদ সৈয়দের সঙ্গে এদের কোনো পার্থক্য নেই। এরা শুধুই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভেদাভেদ করে দেশের ক্ষতি করতে চায়।’

উল্লেখ্য, কুতুব মিনার ভারতের দিল্লীতে অবস্থিত একটি স্তম্ভ বা মিনার, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ইটনির্মিত মিনার। এটি কুতুব কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত। ভারতের প্রথম মুসলমান শাসক কুতুবুদ্দিন আইবেকের আদেশে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে তবে মিনারের উপরের তলাগুলোর কাজ সম্পূর্ণ করেন ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৮৬ খ্রিস্টাব্দে। ভারতীয়-মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে কুতুব মিনার বেশ উল্লেখযোগ্য।

এই কমপ্লেক্সটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাবদ্ধ হয়েছে এবং এটি দিল্লীর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। সূত্র: এইসময়

ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/একে/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত