প্রতিরক্ষা নীতিমালার খসড়ায় মন্ত্রিসভার সায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৯:০৭ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩৩

যুদ্ধের সময় আধা সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী সেনাবাহিনী অধীনে থাকার বিধান রেখে জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা ২০১৮ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

সচিব জানান, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্থাৎ সশস্ত্র বাহিনীর মূল সক্ষমতা কী হবে, সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধকালীন মোতায়েন কীভাবে হবে, সামরিক ও অসামরিক সম্পর্ক কী হবে, সশস্ত্র বাহিনী ও নাগরিকদের সাথে কী সম্পর্ক বজায় থাকবে এ বিষয়গুলোও বিস্তারিত বলা হয়েছে। 

নীতিমালায় বলা হয়েছে, যুদ্ধকালীন আধা সামরিক ও সহায়ক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ডে থাকবেন সামরিক বাহিনীর আওতায়। অর্থাৎ বিজিবি, কোস্টগার্ড, বিএনসিসি, পুলিশসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা বাহিনী সেনাবাহিনীর অপারেশন কমান্ডে থাকবে।

সচিব জানান, নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় কমিটি, মন্ত্রিসভা কমিটি কীভাবে হবে তাও নীতিমালায় পরিষ্কার করা হয়েছে। 

বর্তমানে নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় কমিটির প্রধান প্রধানমন্ত্রী। নতুন নীতিমালাতেও সেই বিধানই রাখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বেই প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পরিচালিত হবে। প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বরাবরই সংসদ কর্তৃক গঠন করা হয় সেভাবেই এখনও থাকবে। 

সচিব জানান, নীতিমালায় গণমাধ্যমের সাথে সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক বিষয়ে এ নীতিমালায় বেশকিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘সচেতন নাগরিক সশস্ত্র বাহিনীর ভাল বন্ধু। জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত অনুমোদিত তথ্য দায়িত্বশীল প্রচারণা মাধ্যমে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সুতরাং একটি বন্ধুপ্রতীম গণমাধ্যম-সামরিক সম্পর্ক অপরিহার্য।’

সচিব বলেন, ‘গণমাধ্যম ও সামরিক সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ এ দুটি প্রতিষ্ঠান জাতীয় সক্ষমতার উপাদান এবং উভয়ই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’ 

নীতিমালায় ‘মুখ্য জাতীয় মূল্যবোধ’ এর বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘সক্রিয় বৈশিষ্ঠ্যমণ্ডিত ভাষা, সংস্কৃতি ও নৃতাত্ত্বিক বিন্যাস এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা সংবলিত একটি অনবদ্য জাতীয়।

সচিব বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে উদ্ধৃত এই মূল্যবোধ সংবলিত রাষ্ট্রের মৌলিক উদ্দেশ্য ও আদর্শিক রূপরেখা গঠন করে যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈদেশিক নীতি এবং সার্বিক জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি প্রদান করে।

নীতিমালার কয়েকটি অধ্যায়ের মধ্যে রয়েছে- মুখ্য জাতীয় মূল্যবোধসমূহ, জাতীয় লক্ষ্য বা প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য, জাতীয় স্বার্থ, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষার মূলনীতিসমূহ বা মৌলিক বিষয়সমূহ।

নীতিমালার উপসংহারে বলা হয়েছে, রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সকলকে প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল- এ উদাত্ম আহ্বা জানিয়ে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে জনসাধারণদের নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। 

ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/এমএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত