সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘বিএনপি নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৮, ২০:৫৪ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৭:৪১
ফাইল ছবি

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে বিএনপি। গত এক মাসেই এই ঘটনা ঘটেছে তিনবার।

এর আগে জানুয়ারিতেও এক দফা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ হয়নি অনুমতি না পাওয়ায়।

অবশ্য এই সময়ের মধ্যে এই ময়দানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এমনকি ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি নামে ভুঁইফোড় দলও সমাবেশ করেছে এই ময়দানে। সমাবেশ করেছে মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠনও। সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে জাতীয় পার্টিও। কেবল প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বিএনপি।

চলতি বছর চারবার এবং গত এক মাসে পরপর তিন দফা অনুমতি চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আগামী ২৯ মার্চ আবারও এই ময়দানে সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি।

আজ সোমবার সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে নয়াপল্টনের দলীয় কার্ালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রথমে ২২ ফেব্রুয়ারি, পরে ১২ মার্চ এবং সবশেষ আজ ১৯ মার্চ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা ২৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দীতে জনসভা করব। আশা করব সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, যাতে আমরা সমাবেশ করতে পারি।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ব্যবহারের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরে আবেদন করে বিএনপি। আর সেখানে কর্মসূচি পালন করতে ডিএমপির কাছে অনুমতি চাওয়া হয়।

গত ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে ৩ মার্চ সেখানে সমাবেশ করে আওয়ামী লীগের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। আগামী ২৪ মার্চ সেখানে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে জাতীয় পার্টি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য, ‘রাশেদ খান মেননের কয়টা লোক আছে? এরশাদের কয়টা লোক আছে? তারপরও তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি পায়? তাহলে বিএনপি পাবে না কেন?’।

যেসব কারণে দেখিয়ে অনুমতি দেয়া হয়নি

দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে প্রথম দফায় ২২ ফেব্রুয়ারি জনসভা করতে ডিএমপির কাছে আবেদন করে বিএনপি। সে সময় বিএনপিকে পুলিশ অনুমতি দেয়নি একই ময়দানে একুশে গ্রন্থমেলার কথা জানিয়ে।

পরে বিএনপি এরপর প্রথমে ১১ মার্চ, পরে সিদ্ধান্ত বদল করে ১২ মার্চ জনসভা করার অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করে। কিন্তু সেবারও অনুমতি মেলেনি। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে।

পরে ১২ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে ১৯ মার্চ একই ময়দানে জনসভা করার ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু এই সমাবেশের অনুমতিও দেয়া হয়নি। কেন এই সিদ্ধান্ত, সে কারণ অবশ্য জানানো হয়নি বিএনপিকে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি নিজে বারবার ফোন করেছি, তারা (ডিএমপি) ফোন ধরেনি। আমাদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখাও করেনি। তারা আমাদেরকে ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চাইছে। কিন্তু আমরা সেদিকে যেতে চাই না।’

এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের চার বছর পূর্তিতেও রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পায়নি বিএনপি। তখন অন্য একটি দলকে ময়দান বরাদ্দ দেয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/বিইউ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত