আর্মি স্টেডিয়ামে কান্নার রোল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৯:৩৫ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৮:৩৫

কেউ বসে বসে কাঁদছেন। কেউ আবার কাউকে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনো স্বান্তনাই যেন কাজে আসছে না। কারণ এক সপ্তাহ আগে যে স্বজনরা সুস্থভাবে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তারা দেশে ফিরেছেন কফিনে মোড়ানো অবস্থায়!

সোমবার বিকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ আনার পর তাদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজনদের আহাজারিতে আর্মি স্টেডিয়ামের আকাশ যেন ভারী হয়ে ওঠে।

এক সপ্তাহ আগে স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অনিরুদ্ধ জামানসহ ২৬জন বাংলাদেশি নাগরিক। কিন্তু কাঠমন্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন। এদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার পর দেশে আনা হবে। যে কারণে আজ দেশে আনা হয়েছে ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ।

যাদের মরদেহ আনা হয়েছে- আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল, সানজিদা ও নুরুজ্জামান।

বিকাল চারটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ আনার পর সেখান থেকে কফিনগুলো সরাসরি আর্মি স্টেডিয়ামে নেয়া হয়। পরে সেখানে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এরপর স্বজনদের কাছে একে একে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। যখন মাইকে একেক জনের নাম ঘোষণা করা হয় তখন গোটা স্টেডিয়ামে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করে। স্বজনদের কান্নায় জানাজায় অংশ নিতে আসা সাধারণ মানুষও চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি।  

ইউএস-বাংলার কো-পাইলট পৃথুলা রশীদের বাবা কাজল, মা  মাহফুজা, খালা ফিরোজা এবং মামা সাইফুর রহমান এসেছিলেন।

পৃথুলার মামা সাইফুর রহমান জানান, তার ভাগ্নির লাশ শ্যামলীতে আশা টাওয়ারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

নিহত যাত্রী নজরুল ইসলাম এবং আক্তারা বেগমের স্বজনরাও এসেছেন। তারা জানান, আক্তারা বেগমের লাশ এখান থেকেই রাজশাহীতে নিয়ে যাবেন।

আর্মি স্টেডিয়ামে এসেছেন নিহত এসএম মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী সানজিদা আফরিন এবং তার শাশুড়ি। তারা জানিয়েছেন, মাহমুদুর রহমানের লাশ ফরিদপুর নিয়ে যাওয়া হবে।

স্টেডিয়ামে এসেছিলেন ইউএস-বাংলার ২২১ ফ্লাইটের কেবিন ক্রু খাজা হোসেন মোহাম্মদ শাফির তিন খালা শাশুড়ি।

স্বজনরা জানান, রাজধানীর বেগমবাজারের পারিবারিক কবরস্থানে শাফির মরদেহ দাফন করা হতে পারে।

নিহত যাত্রী মতিউর রহমানের বড় ভাই মোকছুদুর রহমান লাশ নিতে এসেছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ফেনীতে নিয়ে যাওয়া হবে লাশ। এটুকু বলার পর তিনি আর কোনও কথা বলতে পারছিলেন না।

নেপালে নিহত পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উম্মে সালমা ও নাজিয়া আফরিনের একজন সহকর্মী বলেন, আমরা সহকর্মীর জানাজায় অংশ নেয়ার জন্য এসেছি। তারা দুজন অত্যন্ত মেধাবী কর্মকর্তা ছিলেন। সরকারের উন্নয়ন কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকারি কাজেই তারা নেপাল যাচ্ছিলেন। তাদের এভাবে চলে যাওয়ায় দেশের জন্য ক্ষতি হয়ে গেল। আমরা কাজের মধ্য দিয়ে তাদেরকে স্মরণ করবো।

গত ১২ মার্চ (সোমবার) ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১০ বাংলাদেশি আহত হন।

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/বিইউ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত