স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে: রাষ্ট্রপতি

গাজীপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৮, ২৩:৪৮ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৮, ২১:২৬

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি সুযোগ পেলেই মাথা চাড়া দিয়ে ওঠতে চায়। এরা দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের শত্রু। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে তাদের যে কোন যড়যন্ত্র ও অপচেষ্টাকে রুখে দিতে হবে।

সোমবার বিকালে গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বীর ও শহীদদের স্মরণে নাগরিক সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বিগত দিনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি আমাদের মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক মিথ্যাচার করেছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিক্ষা দেয়ার অপচেষ্টা হয়েছে। যারা ইতিহাস বিকৃত করেছে, তারা সব কিছু জেনে শুনেই করেছে। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভয় পায় বলেই এসব করেছে এবং করছে।

রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশটির জন্ম, সে দেশ আজ সগৌরবে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক বিষয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ অবশ্যই উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের কাতারে শামিল হতে হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর জয়দেবপুরের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের কৌশলে নিরস্ত্র করতে তাদের অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় ঢাকা ব্রিগেড সদর দপ্তর। কিন্তু মুক্তিকামী বাঙালি সৈন্য ও স্থানীয় জনতা তাদের মতলব বুঝতে পেরে অস্ত্র জমা না দিয়ে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে।

১৯ মার্চ পাকিস্তান বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যদের সতর্ক ও রাস্তায় আন্দোলনকারীদের দেখে অস্ত্র জমা নেয়ার আশা ত্যাগ করে ঢাকার দিকে ফেরার প্রস্তুতি নেন। 

এ সময় ছাত্র-জনতা তাদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুরের রেলক্রসিং এলাকা ও চান্দনা চৌরাস্তায় সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পাকিস্তান বাহিনীর গুলিতে এ সময় শহীদ হন হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা। আহত হন অনেকে। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম।

এ সময় স্লোগান ওঠে ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে এটাই ছিল প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/প্রতিনিধি/এলএ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত