তনু হত্যার তদন্তই ‘রহস্যঘেরা’

মাসুদ আলম, কুমিল্লা
| আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৮, ১১:৪০ | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৮, ১১:৩৭

কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা রহস্য উন্মোচন করে যাওয়া তদন্তই আরেক রহস্য হয়ে উঠেছে। দুই বছরে তদন্ত সংস্থা পাল্টেছে দুই দফা। কিন্তু খুনির কাছাকাছি তারা পৌঁছতে পেরেছেন এমন তথ্যও নেই।

নিয়ম অনুযায়ী তদন্তের অগ্রগতি জানানোর কথা পরিবারকে। কিন্তু সে বিষয়েও কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ সারা দেশকে নাড়া দেয়া এই ঘটনায় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিচারের আশ্বাস দেয়া হয়েছে একাধিকবার।

আবার তনুর মৃত্যুর কারণ জানাতে ময়নাতদন্ত শেষে দুইবার এসেছে দুই ধরনের তথ্য। তাও ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর কারণ জানায়নি।

সব শেষ তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া সিআইডি দফায় দফায় বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও মামলার অগ্রগতির বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নয়। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন তিন মাসের মেডিকেল ছুটি নিয়ে এখন শয্যাশায়ী।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফিরেননি তনু। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পায়।

আদালতের নির্দেশে করব থেকে তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া হচ্ছে তনুর মরদেহপর দিন তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে থানা পুলিশ, পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ব্যর্থ হওয়ার পর পর ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

তনু হত্যার পর প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত না পাওয়ার কথা জানান চিকিৎসক কামদা প্রসাদ সাহা। নতুন পরিবার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত যৌন সংসর্গ বা সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের কথা জানানো হয়।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান কামদা প্রসাদ সাহা সে সময় বলেন, ‘তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, মৃত্যুর পূর্বে তার সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স হয়েছে।

‘যেহেতু ১০ দিন পর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে, মৃতদেহ পচা ছিল, ১০ দিন পর পচা গলা মৃতদেহ থেকে নতুন করে কোনো ইনজুরি বোঝা সম্ভব হয়নি।’

তবে পরে সিআইডি আলামত পরীক্ষা করে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়। সে সময় তনুর জামা-কাপড় থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানানো হয়। সেটিও ২০১৬ সালের মে মাসে। কিন্তু এই ধর্ষণে কারা জড়িত, সেটি আর বের করা যায়নি।

সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কি না- এ নিয়েও সিআইডি বিস্তারিত কিছু বলছে না।

২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকা সিআইডি কার্যালয়ে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, চাচাতো বোন লাইজু ও চাচাতো ভাই মিনহাজকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেদিন সিআইডির পক্ষ থেকে তনুর ঘাতকদের চিহিৃত ও বিচারের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল তনুর পরিবারকে।

তনু হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলনে যাওয়া গণজাগরণ মঞ্চ, কুমিল্লার সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, ‘তনু হত্যার মামলাটি দীর্ঘদিন সিআইডিতে পড়ে আছে, মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে সিআইডির গা-ছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’

তনু হত্যার বিচার চেয়ে কর্মসূচিতনুর মা আনোয়ারা বেগম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের চোখে যারা সন্দেহজনক ছিল তাদের নামের তালিকা ঘটনার পর আমরা সিআইডিকে দিয়েছি, কিন্তু সিআইডি শুধু বারবার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।’

‘তনুর বাবা মেয়ের শোকে গত তিন মাস ধরে বিছানায়, তিনি অফিসে যেতে পারছেন না। তার শরীরের যে অস্থা মনে হয় চাকরিটাও করতে পারবেন না।’

সিআইডি কী বলেছে?-জানতে চাইলে তনুর মা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার সিআইডির জালাল উদ্দিন আমাদের বাসায় এসে আবার তনুর ঘাতকদের চিহ্নিত ও বিচারের কথা শুনিয়ে গেছেন।’

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘দুই বছরেও হত্যার রহস্য বের হবে না, এটা কেমন কথা? আমরা গরিব বলে কি এ বিচার পাব না?’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্ত অব্যাহত আছে।’

‘এ যাবৎ তনুর পরিবার ছাড়াও অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে,  সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে।’

ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত