বিমান ট্র্যাজেডি

চোখের জলে আক্তারা বেগমকে শেষ বিদায়

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
| আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৮, ১২:৫৪ | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৮, ১১:৫৮

সর্বস্তরের মানুষের চোখের জল আর শ্রদ্ধায় চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তে নিহত আক্তারা বেগমকে। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর গোরহাঙ্গা গোরস্থান মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত আক্তারা নগরীর উপশহর এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় নজরুল ইসলামও নিহত হন। তবে তার মরদেহ এখনও দেশে আসেনি।

এর আগে আক্তারা বেগমের মরদেহ ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সকালে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মরদেহ রাজশাহী উপশহর ক্রীড়া সংঘের মঠে পৌঁছায়।

মরদেহ আসার আগেই তার শেষ জানাজায় মানুষের ঢল নামে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। এ সময় শোকাবহ হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে। সবাই কফিন ছুঁয়ে শেষ বিদায় জানান তাকে।

জানাজায় রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারা বেগমের জামাতা ইমরান আলী বলেন, তার শাশুড়ির মরদেহ দেশে এলেও শ্বশুর নজরুল ইসলামের মরদেহ শনাক্ত হাওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাই প্রথম দফায় মরদেহ পাঠায়নি নেপাল। কবে পাঠাবে তাও নিশ্চিত নন। মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন ইমরান আলী।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় রাজশাহীর তিন দম্পতিসহ মোট সাতজন ছিলেন। এদের মধ্যে ছয়জনই নিহত হয়েছেন। নিহত ছয়জনের মধ্যে সোমবার পাঁচজনের মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে কেবল আক্তারা বেগমের মরদেহ দাফনের জন্য রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকার গোলাম কিবরিয়ার নিউইয়র্ক প্রবাসী মেয়ে বিলকিস আরা মিতু, শিরোইল এলাকার বেগম হুরুন নাহার ওরফে বিলকিস বানু ও তার স্বামী হাসান ইমামকে ঢাকায় দাফন করা হয়েছে। আর রুয়েট শিক্ষক এমরানা কবির হাসির স্বামী রকিবুল হাসানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে। শিক্ষক হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ১২ মার্চ ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে নিহত হন ৫১ জন। এদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে এদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট তিন মরদেহ শনাক্ত করারও প্রক্রিয়া চলছে।

(ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/আরআর/এলএ/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত